ছত্তিশগড়ে ইডির কড়া নজর! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে হানা, ছেলে গ্রেফতার

ছত্তিশগড়ে মদ কেলেঙ্কারির তদন্তের আঁচ এবার সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের দোরগোড়ায়। শুক্রবার সকালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ছত্তিশগড়ের ভিলাইতে ভূপেশ বাঘেলের বাড়িতে নতুন করে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। এই তল্লাশির পর তাঁর ছেলে চৈতন্য বাঘেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভূপেশ বাঘেল ইতিমধ্যেই টুইটারে একাধিক পোস্ট করে ইডির পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন।

এই অভিযান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে চৈতন্য বাঘেলের বিরুদ্ধে চলমান আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত, তবে এর মূল যোগসূত্র হল চাঞ্চল্যকর মদ কেলেঙ্কারি। ইডি সূত্র অনুযায়ী, এই কেলেঙ্কারির তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে জানা গেছে, রাজ্যে একটি সুসংগঠিত মদ সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল, যার মধ্যে আনোয়ার ঢেবর, অনিল টুটেজা এবং আরও অনেকে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট রাজ্য জুড়ে অবৈধ মদ বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ১৬১ কোটি টাকার অবৈধ আয় করেছে।

ইডি-র তদন্তে আরও গুরুতর তথ্য উঠে এসেছে: তৎকালীন আবগারি মন্ত্রীকে এই কেলেঙ্কারি থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। এটি সরাসরি রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে দুর্নীতির বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই মামলায় ইডি এ পর্যন্ত প্রায় ২০৫ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। তবে, গোয়েন্দা সংস্থা মনে করছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আরও বড় নাম এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। চৈতন্য বাঘেলের গ্রেফতারি এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ইডির এই হানা সেই বৃহত্তর তদন্তেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভূপেশ বাঘেল বরাবরই ইডির এই পদক্ষেপগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়ে এসেছেন। তাঁর দলের পক্ষ থেকেও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে বিরোধীদের হেনস্থার অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে ইডি স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের তদন্ত আর্থিক দুর্নীতির ওপর ভিত্তি করে চলছে এবং যেখানেই দুর্নীতির প্রমাণ মিলবে, সেখানেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই ঘটনা ছত্তিশগড়ের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ইডির হানা এবং তাঁর ছেলের গ্রেফতারি আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। মদ কেলেঙ্কারির এই তদন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে এবং আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি এর জালে জড়িয়ে পড়েন, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।