‘৫০% অফ’-এর নামে আর ঠকানো যাবে না, ই-কমার্স সংস্থার কারচুপি রুখতে মোদী সরকারের মোক্ষম চাল

অনলাইনে কেনাকাটার সময় ‘৫০ শতাংশ’ বা ‘৬০ শতাংশ’ বিশাল ছাড়ের ব্যানার দেখে আমরা অনেকেই চটজল্দি অর্ডার দিয়ে ফেলি। কিন্তু সেই পণ্যের দাম সত্যিই কমানো হয়েছে নাকি আগের দাম বাড়িয়ে কেবল ডিসকাউন্টের নাম ভাঙানো হচ্ছে— তা নিয়ে খটকা থেকেই যায়। কোটি কোটি গ্রাহকের সঙ্গে হওয়া এই প্রতারণা ও বিভ্রান্তি দূর করতে এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্র।

অনলাইন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে পণ্যের আসল দাম, সার্চ রেজাল্ট, স্পনসর্ড লিস্টিং, গ্রাহকের ডেটা সুরক্ষা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে বড়সর বদল আনা হয়েছে। উপভোক্তা বিষয়কমন্ত্রক বা Department of Consumer Affairs আনুষ্ঠানিকভাবে Consumer Protection (E-Commerce) Rules, 2020 সংশোধন করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বার্তা, এর ফলে ই-কমার্স খাতের ওপর সাধারণ ক্রেতাদের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে সারা দেশে এই নয়া নির্দেশিকা কার্যকর হতে চলেছে।

‘ভুয়া ডিসকাউন্ট’ ধরতে নয়া ফর্মুলা নতুন এই নিয়মের সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় দিক হলো ডিসকাউন্টের স্বচ্ছতা। এখন থেকে কোন পণ্য ছাড় দিয়ে বিক্রি করা হলে, তার কমানো দামের পাশাপাশি পণ্যের ‘Prior Price’ বা আগের দামও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) জানিয়েছে, ‘Prior Price’ বলতে ছাড় ঘোষণার ঠিক আগের ৩০ দিনের মধ্যে পণ্যটি সর্বনিম্ন যে দামে বিক্রি হয়েছিল, তাকেই বোঝানো হবে। ফলে কোন বিক্রেতা দাম বাড়িয়ে কৃত্রিম ছাড় দেখাচ্ছে কি না, তা মুহূর্তের মধ্যে ধরে ফেলতে পারবেন ক্রেতারা।

সার্চ রেজাল্ট ও স্পনসর্ড লিস্টিঙে কড়াকড়ি অনেক সময় সার্চ অপশনে কোন বিশেষ পণ্যের ব্র্যান্ডকে জোর করে উপরের দিকে তুলে ধরা হয়, যা আদতে পেইড প্রমোশন। নতুন নিয়মে সার্চ রেজাল্টে কারচুপি করা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, টাকা দিয়ে করানো ‘পেইড’ বা ‘স্পনসর্ড লিস্টিং’ হলে তার গায়ে স্পষ্টভাবে ‘Sponsored’ ডিসক্লেইমার লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে ক্রেতা বিভ্রান্ত না হন।

‘ডার্ক প্যাটার্ন’ ও অনাবশ্যক ফি-তে লাগাম নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী ই-কমার্স সংস্থাগুলোকে Guidelines for Prevention and Regulation of Dark Patterns, 2023 পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ, ‘আর মাত্র ১টি প্রোডাক্ট বাকি’ বলে কৃত্রিম জরুরি অবস্থা তৈরি করা, গ্রাহকের অজান্তে অতিরিক্ত চার্জ বা পণ্য কার্টে যোগ করা কিংবা সাবস্ক্রিপশন ক্যানসেল করার পথ কঠিন করে রাখা— এই সমস্ত ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ বা প্রতারণামূলক স্ট্র্যাটেজি সম্পূর্ণ বেআইনি হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া প্রতি বছর সংস্থাসমূহকে তাদের কমপ্লায়েন্স অডিট করে সার্টিফিকেট দেখাতে হবে।

অভিযোগ নিষ্পত্তি ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ গ্রাহক পরিষেবার স্বার্থে প্রতিটি ই-কমার্স সাইটকে তাদের গ্রিভেন্স অফিসারের কাছে যাওয়া অভিযোগের একটি কপি সরাসরি অভিযোগকারীকে পাঠাতে হবে। একই সাথে National Consumer Helpline (NCH)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে অতি দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে।

এছাড়াও, অনলাইনে কোন পণ্য কেনার আগেই ক্রেতাকে নিম্নলিখিত তথ্যগুলো স্পষ্ট জানাতে হবে:

  • পণ্যের Best Before বা Use Before (মেয়াদ উত্তীর্ণের) তারিখ

  • ওয়ারেন্টি ও গ্যারান্টির সম্পূর্ণ তথ্য

  • রিটার্ন, রিফান্ড ও ডেলিভারির বিস্তারিত শর্তাবলী

  • পেমেন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় স্বচ্ছ তথ্য

সরকারের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ফলে এখন থেকে ডিজিটাল কেনাকাটার ময়দানে সাধারণ গ্রাহকরাই আসল ‘রাজা’ হতে চলেছেন!