“মানুষ দেখুক আমাদের কীভাবে তাড়ানো হলো!” সিপিএমের একতরফা চালে বিস্ফোরক নওশাদ, ভেঙে গেল মহাজোট?

রাজ্যের আগামী উপনির্বাচন ঘিরে বামফ্রন্ট ও ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (ISF) মধ্যে সমীকরণ এবার সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার মুখে। সিপিএম এককভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেওয়ার পর পরই আলিমুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুর চড়ালেন আইএসএফের একমাত্র বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক মন্তব্য করে নওশাদ স্পষ্ট জানান, কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই সিপিএম একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জোটের অস্তিত্বকেই সংকটে ফেলেছে।
নওশাদ সিদ্দিকীর অভিযোগের সারসংক্ষেপ:
বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে পর পর ৩ বার চিঠি দিলেও তার কোনো উত্তর দেয়নি আলিমুদ্দিন।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কেবল “পরের মিটিংয়ে জানানো হবে” বলে এড়ানো হয়।
কোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে দেয় সিপিএম।
চিঠির উত্তর মেলেনি, ফোনেও মেলেনি সাড়া
বিধানসভার সাংবাদিক বৈঠকে নওশাদ সিদ্দিকী জানান, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম ও আইএসএফ একসঙ্গেই লড়াই করেছিল। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনেও সেই সমঝোতা বজায় থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। তবে প্রার্থীর নাম চড়ান্ত করার আগে আইএসএফ-এর তরফে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও বাম নেতৃত্বের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।
নওশাদের দাবি, “আমরা বিমানবাবুকে পর পর তিনবার চিঠি পাঠিয়েছিলাম। কোনো জবাব না পেয়ে আলিমুদ্দিনে ফোন করা হলে জানানো হয় যে, অসুস্থতার কারণে বিমান বসুকে কথা বলতে বারণ করা হয়েছে। এরপর সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরের বৈঠকে বিষয়টি আলোচনার আশ্বাস দেন। অথচ, সেই বৈঠকের পর আমাদের কিচ্ছু না জানিয়েই একা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিল সিপিএম।”
নন্দীগ্রামে প্রার্থী দিচ্ছে আইএসএফ, রেজিনগরে না
সিপিএমের এই একতরফা পদক্ষেপের পর নিজেদের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন আইএসএফ নেতা। তিনি জানান, সিপিএমের সিদ্ধান্ত থেকে পরিষ্কার যে তারা আর আইএসএফ-কে পাশে রাখতে চাইছে না।
| কেন্দ্র | আইএসএফ-এর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত |
| নন্দীগ্রাম | ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দল এই কেন্দ্রে লড়েছিল, তাই নীতি বজায় রেখে উপনির্বাচনেও নিজস্ব প্রার্থী দেবে আইএসএফ। |
| রেজিনগর | এই আসনটিতে দল কোনো প্রার্থী দাঁড় করাবে না। |
“জনগণই বিচার করবে কারা জোট ভাঙল”
বামফ্রন্টের সঙ্গে আগামী দিনের রাজনৈতিক পথচলা ঠিক কী হবে—সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে চরম ক্ষোভ উগরে দেন ভাঙড়ের বিধায়ক। নওশাদ বলেন, “আমাদের সঙ্গে ন্যূনতম আলোচনা না করেই বামফ্রন্ট প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এখন রাজ্যবাসী ও রাজনীতি সচেতন মানুষই দেখুক—আইএসএফ নিজে থেকে ফ্রন্ট ভেঙে বেরিয়েছে, নাকি তাদের চক্রান্ত করে বের করে দেওয়া হলো। এই বিচার জনতার আদালতই করবে।”
উপনির্বাচনের আগে বাম ও আইএসএফ-এর এই আকস্মিক সংঘাত রাজ্যের ভোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।