পণের বলি আরও এক নারী, দুবাইয়ে কন্যাকে খুন করে মায়ের আত্মহত্যা, সুইসাইড নোটে বিভীষিকাময় অভিযোগ

পণের লোভে চালানো পাশবিক নির্যাতন এবং যৌন হেনস্থার শিকার হয়ে ৩৩ বছরের এক যুবতী দুবাইয়ে নিজের দেড় বছরের কন্যাসন্তানকে গলা টিপে খুন করে নিজেও আত্মঘাতী হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। আত্মহত্যার আগে লেখা একটি সুইসাইড নোটে যুবতী তাঁর স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুর এবং ননদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে গেছেন। কেরলের কোল্লামের বাসিন্দা এই যুবতী ও তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা দুবাইয়ে কর্মরত ছিলেন।
বিয়ে থেকে বিভীষিকা: নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা
পুলিশ উদ্ধার করা সুইসাইড নোট এবং প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানতে পেরেছে, সাড়ে তিন বছর আগে ওই যুবতীর বিয়ে হয়েছিল। প্রথম কিছুদিন সবকিছু ঠিকঠাক চললেও, কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির পণের দাবি শুরু হয়। নোট অনুযায়ী, দামি গাড়ি ও পর্যাপ্ত টাকা-গয়না না দেওয়ার জন্য তাঁকে দিনরাত খোঁটা দেওয়া হত। “হতদরিদ্র” এমনকি “অনাথ শিশু” বলেও তাঁকে গালমন্দ করা হত।
নির্যাতনের মাত্রা শুধু মানসিক স্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। যুবতী অভিযোগ করেছেন, তাঁর স্বামী তাঁকে অস্বাভাবিক যৌনতার জন্য জোর করতেন এবং পর্ন ছবির মতো সঙ্গমে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন। আপত্তি জানালে স্বামী তাঁকে চড়, থাপ্পড় এবং ঘুষি মারতেন। আরও ভয়াবহ অভিযোগ হল, তাঁর শ্বশুর বহুবার তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন। এই বিষয়ে স্বামীর কাছে অভিযোগ জানালে, স্বামী উল্টে বলতেন, “শুধু খুশি করতেই বিয়ে করোনি, এই বাড়িতে থাকতে হলে, বাবাকেও সন্তুষ্ট করতে হবে।”
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নিদারুণ যন্ত্রণা:
সুইসাইড নোটে যুবতী আরও জানিয়েছেন যে, তিনি যখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, সেই সময় শাশুড়ি তাঁকে দিনের পর দিন খেতে দিতেন না এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়েও দিয়েছিলেন। ধনী পরিবারের এমন সীমাহীন লোভ তিনি বিয়ের আগে বুঝতে পারেননি।
ডিভোর্স চলাকালীন চরম পদক্ষেপ:
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কয়েক মাস আগে তিনি বিচ্ছেদের মামলা করেন এবং মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। কিন্তু ডিভোর্সের মামলা চলাকালীনও তাঁকে একযোগে সকলে মিলে হেনস্থা করতেন বলে অভিযোগ। অবশেষে, এই চরম মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়ে দিন কয়েক আগে তিনি এই চরম পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন। ভাড়া বাড়িতে নিজের দেড় বছরের কন্যাসন্তানকে খুন করে তিনি নিজেও আত্মঘাতী হন।
তদন্তে কেরল ও দুবাই পুলিশ:
যুবতীর পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর কেরল ও দুবাই পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই কেরলের কোল্লাম পুলিশ যুবতীর স্বামী, ননদ ও শ্বশুরকে আটক করেছে। দুবাই পুলিশও ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। যুবতীর পরিবারের অভিযোগ, স্বামী, শ্বশুর সহ শ্বশুরবাড়ির আরও একাধিক সদস্য যুবতীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন। এই ঘটনা আবারও নারী নির্যাতনের এক ভয়ঙ্কর দিক তুলে ধরল, যা কঠোর শাস্তির দাবি রাখে।