“৫০ হাজারের ফোন ১ হাজারে!”- ফ্লিপকার্টের নকল ওয়েবসাইট, ভুয়ো কাস্টমার কেয়ারের ফাঁদে গ্রাহকরা

ফ্লিপকার্টের ‘GOAT’ (Greatest Of All Time) সেলের আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক বিশাল প্রতারণা চক্র। নকল ওয়েবসাইট, ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার অ্যাকাউন্ট এবং ফিশিং লিঙ্কের মাধ্যমে গ্রাহকদের সর্বস্বান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতারকরা। অনলাইন কেনাকাটার এই মরসুমে তাই চরম সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
কীভাবে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে?
প্রতারকরা অত্যন্ত সুচারুভাবে গ্রাহকদের বোকা বানাচ্ছে। এর কয়েকটি প্রধান পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:
- ভুয়ো ওয়েবসাইট: ভারতের বাজারে ‘Flipkart’ নাম ব্যবহার করে অন্তত ১১টি ভুয়ো ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থা VirusTotal-এর স্ক্যানে এই সাইটগুলোকে ‘ম্যালিশিয়াস’ বা ক্ষতিকারক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই নকল ওয়েবসাইটগুলির লে-আউট এবং ডিজাইন এতটাই আসল ফ্লিপকার্ট সাইটের মতো যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে চট করে নকল ধরা কঠিন। এমনকি এদের ডোমেন নামেও মিল পাওয়া যাচ্ছে, যেমন: flipkart.garud.in এবং flipkart.aditya.com।
এইসব ভুয়ো সাইটে আইফোন, ওয়ানপ্লাস ফোনের দাম দেখানো হচ্ছে মাত্র ₹১,০০০-এর নিচে। ম্যাকবুক এয়ার বিক্রি হচ্ছে ₹৭,৯৯৯-এ, আর পুরুষদের জ্যাকেট ₹৫৫ এবং মহিলাদের জ্যাকেটের দাম মাত্র ₹২৯। এই অবিশ্বাস্য কম দাম দেখে বহু মানুষ প্রলোভিত হয়ে ক্লিক করছেন, যার ফলে তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং ব্যাঙ্কের ডেটা সহজেই প্রতারকদের হাতে চলে যাচ্ছে। গত দু’সপ্তাহের মধ্যেই এমন একাধিক নকল সাইট তৈরি হয়েছে। গত বছরও এক রিপোর্টে ফ্লিপকার্টের নামে ৩,০০০-এরও বেশি ভুয়ো ডোমেন যেমন – flipkart[.]gift, flipkart[.]cricket, flipkart[.]desi, flipkart[.]delivery – চিহ্নিত হয়েছিল, যার মধ্যে অন্তত ২০টি সরাসরি জুয়ার সাইটে নিয়ে যাচ্ছিল।
- ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার: প্রতারকরা শুধু ওয়েবসাইটেই থেমে নেই, X (টুইটার)-এর মতো সামাজিক মাধ্যমেও সক্রিয়। Flipkart Customer Support নাম করে অন্তত ৮টি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে, যেগুলি জুলাই ২০২৫-এই খোলা হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলো ফ্লিপকার্টের লোগো ব্যবহার করে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করছে। সম্প্রতি এক মহিলা নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, একটি ভুয়ো কাস্টমার কেয়ার অ্যাকাউন্ট তাঁকে ‘ফ্লিপকার্ট সাপোর্ট.apk‘ নামে একটি অ্যাপ পাঠায়। এই ফাইল ইনস্টল করার সাথে সাথেই তাঁর ফোনের সমস্ত ডেটা প্রতারকদের হাতে চলে যায়।
ফ্লিপকার্ট আগেও সতর্ক করেছিল
এটি প্রথম ঘটনা নয়। গত বছরও ফ্লিপকার্ট এই ধরনের প্রতারণা নিয়ে গ্রাহকদের সতর্ক করে একটি অ্যালার্ট জারি করেছিল। সেখানে জানানো হয়েছিল:
- ভুয়ো ওয়েবসাইট
- স্ক্যাম মেসেজ
- ফিশিং ইমেল
- নকল কাস্টমার সার্ভিস কল
- এমনকি ভুয়ো অনলাইন গেমের মাধ্যমেও গ্রাহকদের প্রতারণা করা হচ্ছে।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে, অপরাধীরা এবারও সেই পুরনো পদ্ধতিই কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলছে।
আপনার সুরক্ষায় কী করবেন?
সাইবার বিশেষজ্ঞরা অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন:
- অফার দেখে হঠকারিতা নয়: অস্বাভাবিক কম দামের অফার দেখে হঠাৎ করে কোনো অচেনা সাইটে ব্যক্তিগত তথ্য বা ব্যাঙ্কের ডেটা দেবেন না।
- অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করুন: ফ্লিপকার্টের অফিশিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ছাড়া অন্য কোথাও কোনো ধরনের লেনদেন করবেন না।
- অচেনা লিঙ্কে ক্লিক নয়: সন্দেহজনক বা অচেনা কোনো ইমেল বা মেসেজের লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।
- অজানা অ্যাপ ইনস্টল নয়: উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কোনো অজানা অ্যাপ আপনার ফোনে ইনস্টল করবেন না।
অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় অবশ্যই অত্যন্ত সতর্ক থাকুন, কারণ আপনার সামান্য অসতর্কতা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।