পর্দার আড়ালে এসব কি? এক গাড়িতে বসে মদ্যপান তৃণমূল-বিজেপি নেতানেত্রীর, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে অস্বস্তি!

রাজ্য রাজনীতির ময়দানে তৃণমূল ও বিজেপির নেতারা প্রতিদিন পরস্পরের বিরুদ্ধে গলা ফাটালেও, পর্দার আড়ালে বাস্তব চিত্রটা যেন ভিন্ন। সম্প্রতি জলপাইগুড়ি জেলার একটি ভিডিও (Viral Video) ঘিরে তীব্র অস্বস্তিতে পড়েছে দুই যুযুধান রাজনৈতিক শিবিরই — তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার ধারে দাঁড় করানো একটি গাড়ির ভিতরে তৃণমূলের এক জনপ্রতিনিধি এবং বিজেপির মহিলা মোর্চার এক নেত্রী একসঙ্গে মদ্যপান করছেন। যদিও Kolkata24x7.in এই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি।

প্রকাশ্যে এল ‘অন্যরকম’ সম্পর্ক: মদ্যপানরত দুই নেতা-নেত্রী
ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, একটি গাড়ির ভিতরে বসে ওই তৃণমূল নেতা এবং বিজেপি নেত্রী একসঙ্গে মদ্যপান করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটি ধরে ফেলেন এবং মোবাইল ক্যামেরায় সেই মুহূর্তটি ধারণ করতে শুরু করেন। ক্যামেরাবন্দী হওয়ার পরই দুই নেতানেত্রীর মধ্যে অস্বস্তিকর প্রতিক্রিয়া শুরু হয়— তৃণমূল নেতা গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন, অন্যদিকে বিজেপি নেত্রীও মদের গ্লাস লুকিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্থানীয়দের ক্ষোভ: ‘আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়’
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না। তাঁরা বলছেন, “যাঁরা আমাদের ভোটে জিতে প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন, তাঁদের কাছ থেকে এই আচরণ আমরা আশা করিনি।” দুই শিবিরের নেতানেত্রী মাঠেঘাটে যেভাবে একে অপরকে আক্রমণ করেন, সেখানে এক গাড়িতে বসে মদ্যপানকে তাঁরা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না। এলাকাবাসীর একাংশ এই ঘটনায় তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

রাজনৈতিক পরিচিতি ও নেতার ব্যাখ্যা
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ওই বিজেপি নেত্রী বর্তমানে মহিলা মোর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। আর তৃণমূলের যাঁকে ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, তিনি জলপাইগুড়ির একজন জনপ্রতিনিধি। তাঁদের এই ‘সম্পর্ক’ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে।

ভিডিও নিয়ে তৃণমূল নেতা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “ওই বিজেপি নেত্রী আমার এলাকা থেকেই আসছেন। উনি গজলডোবা থেকে পার্টির কাজ সেরে ফিরছিলেন, আমি একজন বন্ধুর সঙ্গে যাচ্ছিলাম। পথে দেখা হওয়ায় কিছুক্ষণ গল্প হচ্ছিল।” তবে ওই বিজেপি নেত্রীর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো মন্তব্য মেলেনি।

‘ঝালমুড়ি’ থেকে ‘মদ্যপান’: সৌজন্যের নতুন মাত্রা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “এটি শুধু নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, দুই দলের মধ্যকার বাস্তব সম্পর্কের প্রতিফলনও হতে পারে।” এর আগে বাংলার রাজনীতিতে ‘ঝালমুড়ি ভাগাভাগি’ করার সৌজন্য রাজনীতি দেখা গিয়েছিল, তবে এবার তা যেন আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে ‘মদ্যপান’ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এই ঘটনার পর বিজেপি এবং তৃণমূল—উভয় শিবিরই অস্বস্তিতে পড়েছে। কোনো পক্ষই এই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি, তবে উভয়ের তরফ থেকেই ‘ঘটনার খোঁজ নিয়ে দেখা হবে’ এমন আশ্বাস মিলেছে।

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—দলের মঞ্চে একে অপরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা নেতানেত্রীরা আদৌ আদর্শের রাজনীতি করেন কি না, নাকি এর বাইরেই চলে ভিন্ন মাত্রার রাজনৈতিক বোঝাপড়া? এই ভাইরাল ভিডিও সেই প্রশ্নগুলিকে আরও জোরালো করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy