জামিনের 24 ঘণ্টার মধ্যে ফের তলব কৌস্তভকে, পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে BJP নেতা

চিকিৎসককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় জামিন পাওয়ার পরও তৃতীয়বারের মতো তলব করা হয়েছে বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীকে। বুধবার তাঁর বাড়িতে নোটিশ পাঠিয়েছে পুলিশ। এর প্রেক্ষিতে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তুলেছেন কৌস্তভ। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনেই তদন্তের স্বার্থে তাঁকে ডাকা হয়েছে।

সোমবার ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান কৌস্তভ। এরপরই মোহনপুর থানার পক্ষ থেকে তাঁর বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী শনিবার (জুলাই ১৩, ২০২৫) সকাল এগারোটার সময় মোহনপুর থানায় হাজিরা দিতে হবে তাঁকে।

কেন এই তলব?
পুলিশের দাবি, আদালত কৌস্তভকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে। জামিন দেওয়ার সময় আদালত এও বলেছে যে, তাঁকে এই ঘটনার তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে এবং যখনই তলব করা হবে, তখনই থানায় হাজির দিতে হবে। তাই, তদন্তের স্বার্থেই তাঁকে তলব করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা ও আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী এই তলবকে পুলিশের ‘প্রতিহিংসামূলক’ আচরণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মোহনপুর থানা আমার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা করেছিল, তার বিরুদ্ধে গত সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছি আমি। জামিনের বিষয়টি মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ও মামলার তদন্তকারী অফিসারকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু, তারপরেও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে আমাকে ৩৫/৩ বিএনএসএস সেকশনে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে এতে সাড়া না দিলে গ্রেফতারও করা হতে পারে। এতেই বোঝা যায় মমতা সরকারের পুলিশ কতটা প্রতিহিংসাপরায়ণ। এঁরা আদালত, আইন-কানুন কিছুই মানে না। এদের আসল চেহারা বাংলার মানুষের সামনে চলে এসেছে।”

ঘটনার সূত্রপাত
গত ১ জুলাই, চিকিৎসক দিবসে এক বিজেপি কর্মীর বাবার মৃত্যু হয় ব্যারাকপুর মোহনপুর সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে। অভিযোগ, এর পরেই হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী। তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া এবং চিকিৎসকদের নিগ্রহ করার অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনায় মোহনপুর থানায় কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়। এরপর পুলিশ তাঁকে প্রথমবার নোটিশ পাঠিয়ে গত শুক্রবার হাজির হতে বলে। কিন্তু, কৌস্তভ তাতে সাড়া না দিয়ে মোহনপুর থানায় চিঠি দিয়ে সময় চেয়ে নেন এবং জানান যে, আগে থেকে দিনক্ষণ জানালে তিনি পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি।

এরপর পুলিশ দ্বিতীয়বার নোটিশ পাঠিয়ে চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার তাঁকে তলব করে। কিন্তু, তার আগেই সোমবার তিনি ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়ে যান। ফলে, মঙ্গলবার তিনি আর থানায় যাননি।

এদিকে, জামিন পাওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃতীয়বারের মতো নোটিশ পাঠিয়ে কৌস্তভকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বেড়েছে। যদিও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হলেও ‘দাদাগিরি’ কিংবা ‘হুমকি’র কোনো অভিযোগই মানতে চাননি কৌস্তভ। উল্টে, ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এনে এর নেপথ্যে শাসকদলের চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

কৌস্তভের ‘হুমকি’র ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর চিকিৎসকদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের তরফে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বাস্থ্যসচিবকে চিঠি দেওয়া হয়। এছাড়াও, প্রগ্রেসিভ হেলথ অ্যাসোসিয়েশনও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করে তাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy