দক্ষিণ কলকাতার কসবা ল কলেজে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা রাজ্যজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত মনোজিত্ মিশ্র কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠায়, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র নির্বাচন, কলেজ ইউনিয়নগুলির ‘দাদাগিরি’ এবং অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মঙ্গলবার বিধানসভায় এ প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য করলেন স্পিকার বিমান বসু, যা রাজ্য সরকারের শিক্ষানীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।
‘অসভ্যতা’ বন্ধের আহ্বান:
স্পিকার বিমান বসু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “কলেজগুলোতে যা হচ্ছে সেটা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য না। অবিলম্বে এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। এগুলো অসভ্যতা।” তিনি উল্লেখ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এমন ঘটনাকে সমর্থন করেন না এবং শিক্ষামন্ত্রীকে এই বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। কসবা কাণ্ডের পাশাপাশি রাজ্যের আরও একাধিক কলেজে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সামনে আসায় শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
ছাত্র নির্বাচন ও ছাত্র সংসদ:
কলেজে ছাত্র নির্বাচন প্রসঙ্গে স্পিকারের মন্তব্য ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, “কলেজে ছাত্র নির্বাচন হওয়া উচিত। ছাত্র সংসদ না থাকলে ছাত্র ইউনিয়নের আবার কি প্রয়োজন।” এই কথার মাধ্যমে তিনি ছাত্র সংসদের প্রয়োজনীয়তা এবং এর অনুপস্থিতিতে ছাত্র ইউনিয়নগুলির ভূমিকায় প্রশ্ন চিহ্ন আঁকেন। বিমান বসু মনে করেন, “সরকার নিশ্চয়ই এই ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করবে। তবে আমি মনে করি ছাত্র ভোট হওয়া বাঞ্ছনীয়।” তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ছাত্র ভোটের আগেই কলেজগুলোতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা “কখনোই কাম্য নয়।”
অস্থায়ী কর্মী নিয়োগে প্রশ্নচিহ্ন:
কলেজে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিষয়েও স্পিকারের মন্তব্যে বিতর্কের সুর শোনা যায়। তিনি বলেন, “কলেজে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ নিয়ে আমার বক্তব্য এতে অসুবিধা কোথায়। ছাত্ররা রাজনীতি করবে তারপরে কলেজে অস্থায়ী হিসেবে কাজ করবে এতে আমি কোনও অন্যায় দেখি না।” কিন্তু এরপরই তিনি তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলেন, “কিন্তু প্রশ্ন হল শুধুমাত্র একটি দলের ছাত্ররাই কেন চাকরি পাবে? অধ্যক্ষের জবাব, নিরপেক্ষভাবে সব দল থেকে নেওয়া উচিত।” এই মন্তব্য পরোক্ষভাবে কলেজে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট একটি দলের ছাত্রদের নিয়োগের অভিযোগের দিকে ইঙ্গিত করে।
জ্যোতি বসুর জন্মদিনে স্মরণ:
আজ পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জন্মদিন। এই দিনে বিধানসভায় জ্যোতি বসুর অবদান স্মরণ করে বিমান বসু বলেন, “জ্যোতি বসু পশ্চিমবাংলার নিঃসন্দেহে একটি উজ্জ্বল নাম। বাংলাকে সংযুক্ত রাখার ক্ষেত্রে তার অবদান অস্বীকার করা যাবে না। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি যেভাবে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তার হাত ধরেই কমিউনিস্ট পার্টি সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে একটা জায়গা করে নিয়েছে। এখন তাদের দলে জ্যোতি বসুর মতন নেতার খুব অভাব। আমি আশা রাখি এরকম একজন নেতৃত্ব অবশ্যই ভবিষ্যতে উঠে আসবে।”
কসবা গণধর্ষণ কাণ্ডের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য, ছাত্র রাজনীতি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্পিকার বিমান বসুর এই মন্তব্যগুলি রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।





