নদীয়ার কৃষ্ণনগর স্টেশন পাড়া সীমান্ত পল্লী এলাকার বাসিন্দা পূর্ণিমা স্বর্ণকার (৬৬) নামের এক প্রবীণা চরম বিপাকে পড়েছেন। কৃষ্ণনগরের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় তার পেনশন অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ অর্থ আটকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ওই ব্যাঙ্কের সামনে ধর্নায় বসেছেন তিনি, যতক্ষণ না সমস্যার সমাধান হচ্ছে, ততক্ষণ তিনি ধর্না চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
কীভাবে শুরু হলো এই সমস্যা?
পূর্ণিমা স্বর্ণকার কিছুদিন আগে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, কৃষ্ণনগর শাখা থেকে একটি ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু, বিভিন্ন কারণে তিনি সেই ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে পারেননি। পূর্ণিমা দেবী জানান, তিনি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অনুরোধ করেছেন যেন তার মাসিক পেনশনের টাকা থেকে ঋণের কিস্তি কেটে নেওয়া হয়। কিন্তু, তার অভিযোগ, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। উল্টোদিকে, তার পেনশন অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে গত দু’মাস ধরে তিনি পেনশন তুলতে পারছেন না।
অসহায় প্রবীণার আকুতি:
পেনশনের টাকা তুলতে না পেরে পূর্ণিমা দেবী বর্তমানে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমার কাছে ওষুধ কেনার পয়সাটুকুও নেই।” তার দাবি, যদি প্রতি মাসে অন্তত ১০ হাজার টাকা করেও তিনি তুলতে পারতেন, তাহলে তার সংসার চালানো এবং নিজের ওষুধ কেনা সম্ভব হতো। জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে একমাত্র ভরসা পেনশনের টাকাও আটকে যাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
নিজের অসহায়ত্ব ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে পূর্ণিমা স্বর্ণকার মঙ্গলবার সকালে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কৃষ্ণনগর সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সামনে ধর্নায় বসেন। তার প্ল্যাকার্ডে নিজের সমস্যা এবং ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্পষ্ট ভাষায় লেখা ছিল। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়েছেন, যতক্ষণ না ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাকে পেনশন তুলতে দিচ্ছে, ততক্ষণ তিনি তার ধর্না চালিয়ে যাবেন।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে পূর্ণিমা দেবীর প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছেন এবং ব্যাঙ্কের এমন কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করছেন। এখন দেখার বিষয়, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এই প্রবীণার সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়।





