সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, আর তার ঠিক কয়েক মাস আগে কোচবিহারের দিনহাটায় ‘অনুপ্রবেশকারী’ সংক্রান্ত একটি নোটিস ঘিরে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দিনহাটার এক প্রবীণ বাসিন্দা দাবি করেছেন, তিনি জন্ম থেকেই কোচবিহারে বসবাস করছেন। অথচ, অসম সরকারের তরফে পাঠানো একটি নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর কোনো বৈধ নথি ছাড়াই অসম সীমান্ত দিয়ে এদেশে প্রবেশ করেছেন। এই আকস্মিক নোটিস পেয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন দিনহাটার ওই বাসিন্দা অসম সরকারের তরফ থেকে একটি সরকারি নোটিস পান। সেই নোটিসে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাকে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর অসম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশকারী একজন ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই ওই বাসিন্দা এবং তার পরিবার গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।
নোটিস প্রাপ্ত ওই বাসিন্দা বারবার দাবি করছেন, তার জন্ম এই কোচবিহারেই এবং তিনি দীর্ঘকাল ধরে এখানেই বসবাস করছেন। তার কাছে কোচবিহারের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে সমস্ত বৈধ কাগজপত্রও রয়েছে। এত বছর ধরে নিজের জন্মভূমিতে বসবাস করার পর হঠাৎ করে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা পাওয়ায় তিনি এবং তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধরনের একটি ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনুপ্রবেশ এবং নাগরিকত্বের বিষয়টি উত্তর-পূর্ব ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বরাবরই একটি সংবেদনশীল বিষয়। অসম সরকারের এই পদক্ষেপ এবং তার জেরে পশ্চিমবঙ্গের এক বাসিন্দার হয়রানি, আসন্ন নির্বাচনে একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনাকে কীভাবে দেখে এবং এর মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে নাগরিকত্ব এবং সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।





