রটউইলারের হামলায় ছিঁড়ল কান, শরীরে গভীর ক্ষত! ক্ষোভে এলাকাবাসী, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে বৃদ্ধা

রবিবার ভোরে দেরাদুনের রাজপুর এলাকায় দুটি রটউইলার কুকুরের অতর্কিত হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন ৬৬ বছর বয়সী এক প্রৌঢ়া, কৌশল্যাদেবী। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তিনি বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং কুকুর দুটির মালিককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

ভয়াবহ আক্রমণ ও গুরুতর জখম:

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার ভোরবেলায় কৌশল্যাদেবী রাজপুর এলাকার একটি গলি দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি বাড়ির পাঁচিল টপকে দুটি রটউইলার কুকুর বাইরে চলে আসে এবং আচমকা তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে কৌশল্যাদেবীর মাথায়, হাত-পা’য় গভীর চোট লেগেছে। কুকুরের হামলায় তার কানও মারাত্মকভাবে ছিঁড়ে গেছে এবং শরীরের দুটি হাড়ও ভেঙেছে বলে জানা গিয়েছে।

দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহত বৃদ্ধার শরীরে প্রায় ২০০টি সেলাই পড়েছে। প্রথমে তাকে শ্রী মহন্ত ইন্দ্রেশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে অস্ত্রোপচারের জন্য অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তার কানের ছিঁড়ে যাওয়া অংশ মেরামতের চেষ্টা চলছে।

কুকুরের মালিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা:

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, কুকুর দুটি নাফিস আহমেদ নামের এক ব্যক্তির। নাফিস কুকুর দুটি তার বন্ধু মহম্মদ জায়েদের বাড়িতে রেখেছিলেন। ঘটনার সময় জায়েদ বাড়িতে ছিলেন না, শুধুমাত্র তার পরিচারিকা বাড়িতে ছিলেন, যিনি পরে কোনোমতে কুকুরগুলিকে ঘরে নিয়ে আসেন।

নাফিস আহমেদকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মহম্মদ জায়েদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এর ২৯১ নম্বর ধারায় (অবহেলার মাধ্যমে পশুদের বিপজ্জনকভাবে রাখা) মামলা রুজু হয়েছে। কৌশল্যাদেবীর ছেলে উমং নিরওয়াল রাজপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, নাফিসের কাছে দেরাদুন পুরসভার লাইসেন্স ছিল না, যা এই ধরনের বিপজ্জনক প্রজাতির কুকুর পোষার জন্য বাধ্যতামূলক। পুলিশ জানিয়েছে, কৌশল্যাদেবীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তার বয়ান রেকর্ড করা হবে এবং প্রয়োজনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও ফৌজদারি ধারা যুক্ত করা হতে পারে।

বিপজ্জনক প্রজাতির কুকুর পোষায় নিষেধাজ্ঞা ও জনসচেতনতা:

দেরাদুনের এসএসপি অজয় সিং বলেন, “কেন্দ্রের তরফে ইতিমধ্যেই এমন বিপজ্জনক প্রজাতির কুকুরের আমদানি, প্রজনন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই তালিকায় রটউইলার, কাইন কোরসো, পিটবুল, কাঙ্গাল, ডোগো আর্জেন্টিনো এবং উলফডগ-এর মতো প্রজাতিগুলি অন্তর্ভুক্ত।”

পুলিশ ও পুরসভার তরফে সাধারণ মানুষকে জানানো হয়েছে, যদি আশেপাশে এই প্রজাতির কুকুর কেউ পোষে এবং তা থেকে কোনো সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে ১১২ নম্বরে ফোন করে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বা পুরসভার দফতরে অভিযোগ জানানো যাবে।

এলাকায় ক্ষোভ ও পূর্ববর্তী ঘটনা:

এই ঘটনায় রাজপুর এলাকায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর সঞ্জয় নওটিয়াল এবং এলাকার বাসিন্দারা দেরাদুনের মেয়র ও পুলিশের কাছে গিয়ে নাফিস ও জায়েদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, এই একই কুকুর অতীতেও একাধিকবার মানুষকে আক্রমণ করেছে। কিন্তু তখন নাফিস অভিযোগকারীদের ভয় দেখিয়ে বা টাকার বিনিময়ে বিষয় মিটিয়ে ফেলতেন। এবারেও তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে বলেছিলেন, “যা পারো করে নাও!” এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দুই-ই বৃদ্ধি পেয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy