‘হিন্দুরা আমাকে বিধায়ক করেছেন, কিন্তু..,!’ ২৬-এর আশায় ২০২১-এর জয় টেনে যা বললেন শুভেন্দু?

দক্ষিণ কলকাতার কসবা ল কলেজে ধর্ষণের প্রতিবাদে আয়োজিত ‘কন্যা সুরক্ষা যাত্রা’য় অংশ নিয়ে মঙ্গলবার নন্দীগ্রামের মাটি থেকে ফের একবার ভোট রাজনীতি নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃষ্টিভেজা মিছিল শেষে তিনি সোজাসাপটা ভাষায় বলেন, “আমি চাই, কিন্তু পাই না।” যদিও তিনি সরাসরি কারো নাম উল্লেখ করেননি, তবুও রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে শুভেন্দুর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী এদিন আবারও নিজের ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের জয়কে টেনে আনেন। তিনি বলেন, “হিন্দুরাই আমাকে বিধায়ক করেছেন। ১ লক্ষ ১০ হাজারের মধ্যে ১ লক্ষ ৯ হাজার ৬০০ হিন্দুর ভোট পেয়েছি।” একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, কিছু এলাকায় তৃণমূল ও বামেরা বিপুল ভোট পেলেও, তিনি সেখানে পেয়েছেন মাত্র ২টি ভোট। এই তথ্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন, “সবাইকে চাই, কিন্তু ভোট পাই না। এটাই কঠিন বাস্তব।” এই মন্তব্য হিন্দু ভোট একত্রিতকরণের উপর বিজেপির সম্ভাব্য জোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সম্প্রতি রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ‘নো ভোট টু বিজেপি’ শিবিরকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দুর আজকের মন্তব্যে অনেকেই রাজনৈতিক ইঙ্গিত খুঁজে পাচ্ছেন। শুভেন্দু বলেন, “যা বলি ভেবে বলি, আর যা বলি তা করি।” তাঁর এই কথার মধ্যে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং বাস্তবতাবোধের এক মিশ্রণ স্পষ্ট, যা নতুন নেতৃত্বকে পরোক্ষভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কর্মপন্থা সম্পর্কে বার্তা দেওয়ার শামিল বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “২০২১-এ নন্দীগ্রাম যা দেখিয়েছে, ২০২৬-এ বাংলা তা দেখাবে।” এর সঙ্গে তিনি সম্প্রতি সমবায় নির্বাচনে বিজেপির জয়কেও তুলে ধরেন এবং দাবি করেন যে, মানুষ এখন পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে।

মঙ্গলবারের এই মিছিলে শুভেন্দু অধিকারী কার্যত শাসকদল তৃণমূল এবং নিজের দলের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্ব—দুটোকেই স্পষ্ট করে তুলে ধরলেন। প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল বিরোধী ভোটকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রচেষ্টার মধ্যেই কি বিজেপির অন্দরেই এবার নতুন করে ভাঙন বা মতপার্থক্য মাথাচাড়া দিচ্ছে? আসন্ন দিনগুলিতে রাজ্য রাজনীতিতে এই ‘চাওয়া-পাওয়ার’ সমীকরণ কী রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy