শিল্পপতি গোপাল খেমকা হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত বিকাশ ওরফে রাজা মঙ্গলবার ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে এক এনকাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় পাটনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই তদন্তে এক নতুন মোড় এল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিকাশ বেআইনি অস্ত্র তৈরি ও বিক্রির এক বৃহৎ চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিশেষ তদন্ত দল (SIT) এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর একটি যৌথ দল মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিকাশ গুলি ছোঁড়ে। আত্মরক্ষার্থে এবং তাকে পালাতে বাধা দিতে গিয়ে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে বিকাশ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি বুলেট এবং একটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। বিকাশের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাটনার নালন্দা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার পর্যন্ত গোপাল খেমকার হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন সরাসরি গুলি চালিয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়াও, যে ব্যক্তি ‘সুপারি কিলার’ ভাড়া করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তাকেও পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানান, “এই দুই ব্যক্তিকে পাটনাতে STF ও পাটনা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং যথাসময়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।”
গত ৪ জুলাই রাত ১১টা ৪০ মিনিটে পাটনার গান্ধী ময়দান এলাকার নিজের বাড়ির গেটের কাছে বাইকে আসা দুষ্কৃতীদের গুলিতে গোপাল খেমকার মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, সাত বছর আগে হাজিপুরে তাঁর ছেলেও একইভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার গত শনিবার একটি জরুরি বৈঠক ডেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং এই মামলার দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন। প্রসঙ্গত, গোপাল খেমকার সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিকাশের এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার ঘটনা এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





