“৫০ কেজি সোনা, হিরে-জহরতে ভরা বাক্স…”-PNB-কেলেঙ্কারিতে নেহালের ভূমিকা কি ছিল?

পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাতের যে বিশাল কেলেঙ্কারি দেশজুড়ে তোলপাড় ফেলেছিল, এবার সেই ঘটনায় বড় অগ্রগতি। পলাতক হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদীর ভাই নেহাল মোদীকে আমেরিকায় গ্রেফতার করা হয়েছে। নেহালের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া বর্তমানে আমেরিকার একটি আদালতে চলছে বলে জানা গেছে, যা এই হাই-প্রোফাইল মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং প্রমাণ নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এই কেলেঙ্কারির মূল অভিযুক্ত নীরব মোদী ইতিমধ্যেই লন্ডনের জেলে বন্দি আছেন এবং তাঁরও প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া চলছে।

পিএনবি কেলেঙ্কারিতে নেহালের ভূমিকা:

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বৃহৎ আর্থিক জালিয়াতিতে নেহাল মোদীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন ভারতে তদন্ত শুরু হয়, সেই সময় নেহাল দুবাইয়ের সংস্থা ফায়ারস্টার ডায়মন্ড এফজেডই থেকে ৫০ কেজি সোনা সরিয়ে ফেলেছিলেন। পুরো বিষয়টি তাঁরই তত্ত্বাবধানে হয়েছিল বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তিনি হংকং থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকার হিরের গয়না আত্মসাৎ করেন। এছাড়াও ১৫০ বাক্স মুক্তো এবং দুবাই থেকে আরও ৫০ কেজি সোনা সরিয়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মিহির ভনসালি নামে তাঁর এক অংশীদারের সঙ্গে মিলে নেহাল এই কাজগুলি করেছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রমাণ লোপাট এবং সাক্ষীদের ভয় দেখানোর অভিযোগ:

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) সূত্রে খবর, নেহাল কেবল অর্থ আত্মসাৎই করেননি, তিনি বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণও নষ্ট করেছেন। মোবাইল ফোন এবং সার্ভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ তিনি সরিয়ে ফেলেন।

তদন্তকারীরা নেহালের আরও কিছু চাঞ্চল্যকর অপকর্মের কথা জানতে পেরেছেন। জানা গেছে, তিনি কয়েকজন সাক্ষীকে ভয় দেখিয়ে কায়রোতে পাঠিয়েছিলেন এবং সেখানে তাঁদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এমনকি, তাঁদের দিয়ে ভুয়ো নথিতে সইও করানো হয়। একটি নির্দিষ্ট মামলায় নেহাল একজন সাক্ষীকে ইউরোপের আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিশ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ:

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে নেহাল মোদীর বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড কর্নার নোটিশ জারি করেছিল। নেহাল বেলজিয়ামের নাগরিক। তিনি ইংরেজি, হিন্দি এবং গুজরাটি ভাষায় সাবলীল। পিএনবি কেলেঙ্কারির অন্যতম দুই প্রধান অভিযুক্ত নীরব মোদী এবং তাঁর মামা মেহুল চোকসি এখনও পলাতক। তাঁদের নাগাল পেতে ভারতের তদন্তকারী আধিকারিকরা মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইডি এবং সিবিআই উভয় সংস্থাই দাবি করেছে যে এই আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলায় নেহালেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। জানা গেছে, নেহালের প্রত্যর্পণ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৭ই জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। এই গ্রেফতারি পিএনবি কেলেঙ্কারির তদন্তে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy