“ট্রাম্পের সামনে ঝুঁকতেই হবে মোদীকে”-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে রাহুলের ভবিষ্যদ্বাণী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক কার্যকর করার বর্ধিত সময়সীমা শেষ হতে চলেছে। এই আবহে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখনই তীব্র বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। রাহুল গান্ধীর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের সময়সীমার কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হবেন। অন্যদিকে, পীযূষ গোয়েল দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, ভারত কোনও সময়সীমার চাপে নয়, বরং নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই আলোচনা করে।

**ট্রাম্পের শুল্ক ও বর্ধিত সময়সীমা:**

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে ভারতকে ‘শুল্কের রাজা’ এবং শুল্কের বড় অপব্যবহারকারী হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। গত ২রা এপ্রিল, ট্রাম্প পারস্পরিক শুল্কের অধীনে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন। তবে, অন্যান্য দেশগুলিকে আমেরিকার সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছনোর সুযোগ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেই শুল্ক আরোপের সময়সীমা ৯০ দিন বাড়িয়ে দেন, যা আগামী ৯ই জুলাই শেষ হচ্ছে।

**রাহুল গান্ধীর হুঁশিয়ারি:**

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের এক মন্তব্যের পরই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই প্রসঙ্গে মুখ খোলেন। এদিন পীযূষ গোয়েল বলেছিলেন যে, ভারত তখনই আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করবে যখন তার জাতীয় স্বার্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। এর জবাবে রাহুল গান্ধী ট্যুইট করে বলেন, “পীযূষ গোয়েল যত ইচ্ছা বুক চাপড়াতে পারেন, কিন্তু আমার কথা মনে রাখবেন, মোদী ট্রাম্পের শুল্কের সময়সীমার কাছে মাথা নত করবেন।” রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য শাসকদলের উপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।

**পীযূষ গোয়েলের পাল্টা আক্রমণ:**

রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, “ভারত ডেডলাইনের মধ্যে আলোচনা করে না। জাতীয় স্বার্থকে মাথায় রেখে আলোচনা করে। বিশ্বজুড়ে আমাদের সব কাজে জাতীয় স্বার্থই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ… আজ ভারত শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে আলোচনা করে। আত্মবিশ্বাসী এবং বিশ্বের যে কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারি।” গোয়েল আরও বলেন, “এটা ইউপিএ শাসনকালের ভারত নয়, যেখানে জাতীয় স্বার্থের বাইরে আলোচনার জন্য ভিক্ষা চাওয়া হবে… রাহুল গান্ধী, তার সহকর্মীরা এবং তার দল ক্রমাগত যে নেতিবাচক মন্তব্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন সে কারণে আর কেউ তাঁকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় না। তারা ভারতের জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। যারা বারবার কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আজ পর্যন্ত, তারা জাতির উন্নয়নের জন্য কোনও ইতিবাচক এজেন্ডা নিয়ে আসতে পারেনি।”

**ভারতের অনড় অবস্থান:**

জানা গেছে, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি ৯ই জুলাইয়ের আগে স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারতের অবস্থান এখনও অনড়। ভারত মার্কিন কৃষি আমদানি যেমন ভুট্টা এবং সয়াবিনের উপর শুল্ক কমাতে নারাজ। এছাড়াও, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের দুগ্ধ খাতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার চেয়েছিল, যেখানে ৮ কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এই বিষয়টিও বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু।

দিল্লিতে এক ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পীযূষ গোয়েল আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারত কৃষি ও দুগ্ধ খাতের স্বার্থের সঙ্গে কোনো আপস করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত কখনই সময়সীমা বা সময়ের চাপের উপর ভিত্তি করে বাণিজ্য চুক্তি করে না। গোয়েলের মতে, “এটি উভয় পক্ষের জন্যই একটি লাভজনক চুক্তি হওয়া উচিত, যাতে ভারতের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। তবেই এটি একটি ভালো বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে। যদি এটি ঘটে তবে ভারত সর্বদা উন্নত দেশগুলির সঙ্গে যোগ দিতে প্রস্তুত।”

৯ই জুলাইয়ের সময়সীমার আগে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ কী হয়, এবং রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy