বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের সম্বল জেলায়। জুনাবাই থানা এলাকায় জনতা ইন্টার কলেজের কাছে এক দ্রুতগতির বোলেরো গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কলেজের দেওয়ালে সজোরে ধাক্কা মেরে ভিতরে ঢুকে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক মহিলা এবং দুই শিশু সহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত এবং আহতরা সকলেই একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাড়িটিতে চালক সহ ১২ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার তীব্রতায় এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারাই দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত এসপি অনুকৃতি শর্মা, সিও এবং থানার পুলিশ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে পুলিশ জখমদের গাড়ি থেকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
গতি ও চালকের ভুল: দুর্ঘটনার কারণ?
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বোলেরো গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছিল। অনুমান করা হচ্ছে, এই সময়ে চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং গাড়িটি সোজা কলেজের দেওয়ালে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং কলেজের দেওয়ালে একটি বড় ফাটল ধরে যায়। ঘটনার পরপরই গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
অ্যাডিশনাল এসপি অনুকৃতি শর্মা জানান, “আজ সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ জুনাবাই এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। পাঁচজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহতকে আলিগড়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, মৃত এবং আহত সকলেই জুনাবাই থানা এলাকার হরগোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর নিজেই বরযাত্রী নিয়ে বদায়ু যাচ্ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চালকের ভুলের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি আবারও সড়কে নিরাপত্তা এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিপদ সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।