হাজার হাজার বছর পেরিয়েও যাঁর প্রতিটি উপদেশ আজও জীবন চলার পথে আলোর দিশা দেখায়, তিনি হলেন প্রাচীন ভারতের মহামতি আচার্য চাণক্য। সর্বশাস্ত্রজ্ঞ, কূটনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক এই বিরল ব্যক্তিত্ব জীবনের প্রতিটি দিককে দেখেছেন গভীর প্রজ্ঞা ও বাস্তবতার নিরিখে। তাঁর কালজয়ী ‘চাণক্য নীতি’ আধুনিক সমাজেও সমান প্রাসঙ্গিক এবং সফল জীবনের জন্য অপরিহার্য।
আচার্য চাণক্যের চোখে ‘বিষাক্ত বন্ধু’:
অর্থনীতি ও মানবজীবনের প্রতিটি সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করা আচার্য চাণক্য বন্ধুত্ব নিয়েও দিয়েছেন এক অমূল্য উপদেশ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোন ধরনের বন্ধুদের বিশ্বাস করা উচিত নয় এবং কাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা আবশ্যক।
চাণক্যের মতে, “যে বন্ধুরা আপনার অনুপস্থিতিতে আপনার ক্ষতি করে এবং আপনার সামনে মিষ্টি কথা বলে, তারা পাত্রে ভরা বিষের মতো। এদের থেকে নির্দ্বিধায় দূরে সরে আসা উচিত।” ঠিক যেমন কেউ জেনেবুঝে বিষ গ্রহণ করে না, তেমনই এই ধরনের ‘মিষ্টি মুখের বিষাক্ত বন্ধু’দের থেকে শত হস্ত দূরে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। এদের বন্ধু নামে ভূষিত করা উচিত নয়, কারণ এরা আসলে ছদ্মবেশী শত্রু ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনার জীবন থেকে এদের পুরোপুরি বাদ দেওয়াই মঙ্গলজনক।
গোপনীয়তা: এমনকি সত্যিকারের বন্ধুর থেকেও:
চাণক্য আরও বিশ্বাস করতেন যে, কিছু মানুষকে কখনো বিশ্বাস করা উচিত নয়। তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, একজন সত্যিকারের বন্ধুও যদি খারাপ অভ্যাসের শিকার হয়, তাহলে সেও আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ হলো, আপনার জীবনের একান্ত গোপন কথাগুলো, সে যতই সত্যিকারের বন্ধু বা ছোটবেলার সঙ্গী হোক না কেন, তার সাথেও ভাগ করে নেওয়া উচিত নয়।
আচার্য চাণক্যের মতে, “একজন ভালো এবং প্রকৃত বন্ধুর সামনেও আপনার জীবনের কিছু গোপন কথা প্রকাশ করা উচিত নয়।” কারণ কিছু বিষয় গোপন রাখাই জীবনের জন্য কল্যাণকর। এই নীতিগুলি আজও আমাদের সম্পর্কের জটিল সমীকরণ বুঝতে এবং সুরক্ষিত থাকতে সাহায্য করে। চাণক্যের এই উপদেশগুলি মেনে চললে একজন ব্যক্তি জীবনে ঠকে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে পারে এবং প্রকৃত সুখ ও শান্তি খুঁজে পেতে পারে।