গল্প, আড্ডা আর আতিথেয়তা ছাড়া মানুষের জীবন অসামাজিক হয়ে পড়ে, একাকিত্ব গ্রাস করে। আনন্দের সঙ্গে বাঁচতে হলে সবার সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে যাওয়াটা জরুরি। কিন্তু যদি আপনার কথায় অন্য কেউ বিব্রত হন, তবে গল্প বা আড্ডা দেওয়ার চেয়ে চুপ থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কখনো কি এমন হয়েছে যে, আত্মীয়-স্বজনের বিভিন্ন প্রশ্নের ভয়ে আপনি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যেতে চান না? বা তীর্যক কথার ভয়ে কোনো আড্ডা বা পার্টি এড়িয়ে চলেন? দৃশ্যটা নিশ্চয়ই পরিচিত লাগছে! আপনার মুখের কিছু কথার ভয়ে কেউ একজন আপনার মুখোমুখি হতে চাইছে না—এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে! অন্যের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন করলে তা উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে বা কাউকে তুচ্ছ মনে করাতে পারে। যদিও আমরা বেশিরভাগই এ ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে চাই না, আমাদেরও খেয়াল রাখতে হবে যেন অন্য কেউ আমাদের দ্বারা একইভাবে আহত না হয়। যারা বুদ্ধিমান, তারা অন্যকে প্রশ্ন করার সময় ভেবেচিন্তে প্রশ্ন করে। জেনে নিন, বুদ্ধিমান মানুষেরা অন্যকে যে ৫টি প্রশ্ন কখনোই করে না:
১. “আপনি কি ওজন বাড়িয়েছেন/কমিয়েছেন?”
অন্যের চেহারা এবং ওজন নিয়ে কথা বলার অভ্যাস থাকলে তা আজই বাদ দিন। কথা বলার জন্য আরও অনেক ভালো বিষয় আছে। কে দেখতে কেমন, কার ওজন কতটুকু তা আপনার চিন্তার বিষয় নয়। যদি আপনি তাদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেও ওজন নিয়ে কথা বলেন, তবে মনে রাখবেন, একজন ব্যক্তির ওজন অগণিত কারণের ওপর নির্ভর করে এবং একদিনে তা ছয় পাউন্ড পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে। ডিহাইড্রেশন, অন্ত্রের কার্যকারিতা, অসুস্থতা এবং হরমোনজনিত অবস্থার মতো অনেক কারণ থাকতে পারে ওজন কম বা বেশি হওয়ার, যা মানুষের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কারও ওজন পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পরিবর্তে, তার আত্মসম্মান বাড়াতে সাহায্য করে এমন ইতিবাচক বিষয় নিয়ে কথা বলুন।
২. “আপনার বেতন কত?”
বেঁচে থাকার জন্য প্রত্যেকেই কিছু না কিছু করছেন। অন্য কারোর উপার্জন সম্পর্কে জানতে চাওয়া আপনার প্রশ্নের ভেতরে আনা উচিত নয়। আরেকজন কত টাকা উপার্জন করছেন, সেটি আপনার না জানলেও ক্ষতি নেই এবং জেনেও কোনো লাভ নেই। এর বদলে নিজের উপার্জন বাড়ানোর দিকে মন দিন। আপনি যদি শুদ্ধতম উদ্দেশ্য নিয়েও জিজ্ঞাসা করতে চান, তবুও এই প্রশ্ন থেকে বিরত থাকা উচিত।
৩. “বাচ্চা নেবেন কখন?”
এটি একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয়, যার জন্য কারও মতামত বা অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই। এটি একটি দম্পতির সম্পূর্ণ নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং এটি সম্মতি, বয়স, স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং অর্থের মতো একাধিক কারণের ওপর নির্ভর করে। কোনো দম্পতিকে তাদের পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার কোনো অধিকার আপনার নেই। এই জাতীয় কোনো প্রশ্ন থেকে বিরত থাকাই ভালো।
৪. “কেন আপনি ডেটিং/বিয়ে করছেন না?”
বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা এই সত্যটি স্বীকার করেন যে মানুষের বিভিন্ন সময়রেখা থাকে এবং তাদের আলাদা জীবন থাকে, যা সবসময় তাদের কাজ করার উদ্দেশ্য এবং সামাজিক প্রত্যাশার সঙ্গে মেলে না। যদি তার জানাতে ইচ্ছা হয়, সে নিজে থেকেই আপনাকে জানাবে। অন্য কেউ কখন সম্পর্কে জড়াবেন বা কখন বিয়ে করবেন, সেই বিষয়ে আপনার জানার আগ্রহ না থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. “কখন সত্যিকারের চাকরি পাচ্ছেন?”
কাউকে বলার জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং ক্ষতিকারক জিনিসগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এই প্রশ্নটি পরোক্ষভাবে বোঝায় যে, তারা জীবনে খুব বেশি কিছু অর্জন করেনি এবং তারা যা করছে তা কেবলই বিনোদন, যার কোনো আর্থিক মূল্য নেই। এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা অভদ্র এবং সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত। আপনি যদি তাদের কর্মজীবনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন যা তার প্রতি আপনার আন্তরিক উদ্বেগ প্রকাশ করে। যেমন: ‘আপনি কোন প্রকল্পে কাজ করছেন?’ বা ‘আমি আপনার কাজ সম্পর্কে আরও জানতে চাই’।
এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে চললে আপনি কেবল নিজের সামাজিক আচরণই উন্নত করবেন না, বরং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন এবং আরও ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।