আহমেদাবাদের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বড় সিদ্ধান্ত নিল এয়ার ইন্ডিয়া। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে, এয়ার ইন্ডিয়া তাদের ওয়াইডবডি আন্তর্জাতিক বিমানের সংখ্যা ১৫ শতাংশ হ্রাস করার ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্ত ২০ জুন থেকে কার্যকর হবে এবং জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই কমানো ফ্লাইট সংখ্যা বহাল থাকবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও, সংস্থা বিকল্প বিমান এবং বিনামূল্যে টিকিট ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
বিজনেস টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার জেরে এয়ার ইন্ডিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং এই সিদ্ধান্তকে ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যাত্রী, নিয়ন্ত্রক, বিমান পরিবহন মন্ত্রক এবং সমগ্র ভারতের অব্যাহত সহায়তায় এই মর্মান্তিক ঘটনা থেকে আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠব।”
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ায় রাতের আকাশসীমা কারফিউ জারির কারণে বিমান চলাচলে এমনিতেই নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই গত ছয় দিনে এয়ার ইন্ডিয়ার ৮৩টি আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল করা হয়েছে। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বাতিলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী হয় আহমেদাবাদ। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান ভেঙে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় ২৪১ জন যাত্রীসহ প্রায় ২৭০ জন প্রাণ হারান। অবিশ্বাস্যভাবে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক রমেশ বিশ্বাস কুমার ছিলেন একমাত্র যাত্রী যিনি এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়ার ৩৩টি ওয়াইডবডি বিমানের মধ্যে বর্তমানে ২৬টি বিমান পরিচালনার জন্য অনুমোদিত হয়েছে। এর পাশাপাশি, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে, বোয়িং ৭৭৭ মডেলের বিমানগুলিরও একই রকম নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে যাত্রী নিরাপত্তার প্রতি তাদের অঙ্গীকারের ইঙ্গিত দেয়। তবে এই সাময়িক ফ্লাইট কমানোর ফলে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের উপর যে চাপ পড়বে, তা সামাল দিতে সংস্থা কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।