ইসরায়েলে ফের ইরানের রকেট বৃষ্টি, আহত অর্ধশতাধিক, যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ!

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার পারদ আরও এক ধাপ চড়ল। রবিবার রাতে শুরু হয়ে সোমবার ভোর পর্যন্ত ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও কেঁপে উঠল ইসরায়েল। মধ্য ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে চালানো এই সর্বশেষ আক্রমণে অন্তত ৩ জন নিহত এবং ৬৭ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই হামলা গত কয়েকদিনে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতকে আরও এক নতুন মাত্রা এনে দিল।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ভোরে ইরান ফের ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি বর্ষণ করে। এর ফলে দেশজুড়ে বেজে ওঠে সতর্কতামূলক সাইরেন। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অংশে শোনা যায় একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ। বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এই হামলায় যে তিনজন নিহত হয়েছেন, তাদের পরিচয় এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। আহতদের মধ্যে একজন ১০ বছর বয়সী শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল সংস্থা ইউনাইটেড হাটজালাহ। তারা কেন্দ্রীয় ইসরায়েলের তিনটি এলাকায় আহতদের চিকিৎসা দিয়েছে।

তেল আভিভ ও পেতাহ টিকভায় সরাসরি আঘাত, হুথিদেরও হামলা
পেতাহ টিকভা শহরের পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের একটি ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলি পুলিশ তেল আভিভের দুটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার খবর নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর হোম ফ্রন্ট কমান্ড রবিবার রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ জারি করে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি রেড ক্রস (এমডিএ) জানিয়েছে, তারা চারটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার রিপোর্ট পেয়েছে এবং দ্রুত তাদের দল ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। তারা অন্তত ২৯ জনকে চিকিৎসা ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে, যার মধ্যে তিনজনের অবস্থা মাঝারি এবং বাকি ২৬ জন হালকা আহত। এছাড়াও, অনেকে তীব্র আতঙ্কে ভুগছিলেন, তাদেরও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরও হতাহতের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও এমডিএ জানিয়েছে।

আশঙ্কার মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে যখন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান জানিয়েছে, ইসরায়েলের উত্তরের হাইফা শহরেও কয়েকজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে, ইয়েমেন থেকে হুথি বিদ্রোহীরাও একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার কারণে সাইরেন বেজে ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই হামলা চলাকালীন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জনসাধারণের প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, যেন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঠিক অবস্থান, ছবি বা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ না করা হয়। কারণ, শত্রুপক্ষ এই তথ্যগুলি পর্যবেক্ষণ করে তাদের আক্রমণের সক্ষমতা আরও উন্নত করতে পারে। এর পরপরই ইসরায়েলের উত্তরে, বিশেষ করে রোশ হানিক্রা এলাকায় ড্রোন অনুপ্রবেশের সাইরেন বেজে ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

জেরুজালেম পোস্ট আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলের উপকূলীয় অঞ্চলে যেসব স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে, সেসব স্থানে বিদেশি সংবাদমাধ্যম ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করছে—এমন খবরে পুলিশ দ্রুত সাড়া দিয়ে তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন করে সংঘাতের স্ফুলিঙ্গ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এই হামলার পর ইসরায়েলের পাল্টা পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy