আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার (যার মৃতের সংখ্যা ২৭৯-এ পৌঁছেছে) রেশ যখন গোটা দেশকে শোকস্তব্ধ করে রেখেছে, ঠিক তখনই সামনে এলো আরও এক চাঞ্চল্যকর খবর। দুর্ঘটনার মুহূর্তের একটি ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে এবার পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছে আরাবল্লি জেলার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। আহমেদাবাদ পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ শনিবার আরিয়ান আসারি নামের এই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
পুলিশের কাছে তথ্য আসে যে, বিমান দুর্ঘটনার মুহূর্তের যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে, সেটি আরিয়ানের রেকর্ড করা। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরিয়ান তার বাবার সঙ্গে আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে লক্ষ্মীনগরে বসবাস করে। তার বাবা গুজরাট মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেডের একজন কর্মী।
টেক-অফের মুহূর্তের ভিডিও, ৩ দিন পর নজরে পুলিশ
গত ১২ তারিখে আহমেদাবাদে সংঘটিত বিমান দুর্ঘটনার পর একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর মধ্যে বিশেষভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল টেক-অফের পরক্ষণেই বিমানটি লোকালয়ে ভেঙে পড়া এবং দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠার দৃশ্য। ঘটনার তিন দিন পর পুলিশের কাছে খবর আসে যে, এই নির্দিষ্ট ভিডিওটি আরিয়ানের কাছ থেকেই প্রথম ছড়িয়েছে।
এর পরেই শনিবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের গোয়েন্দারা আরিয়ানের লক্ষ্মীনগরের ঠিকানায় হাজির হন। তবে সূত্রের দাবি, আরিয়ান পুলিশকে জানিয়েছে যে, ভিডিওটি সে নিজে রেকর্ড করেনি। তার এক বন্ধু এটি রেকর্ড করেছে এবং সে শুধুমাত্র স্ক্রিন রেকর্ড করে সেটি তার বাবার সঙ্গে শেয়ার করেছিল। পরবর্তীতে সেটি একাধিকবার ফরওয়ার্ড হয়ে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবার উধাও, রহস্য আরও ঘনীভূত
যদিও এই ঘটনার পর থেকে আরিয়ান বা তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। লক্ষ্মীনগরের তাদের বাড়িতে তালা ঝুলছে এবং আরিয়ানের বাবার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরিবারের উধাও হয়ে যাওয়া ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
পুলিশ বর্তমানে এই ভিডিওর উৎস এবং এটি ছড়িয়ে পড়ার পেছনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার সংবেদনশীল মুহূর্তের ভিডিও এত দ্রুত এবং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণ কী? এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে কিনা, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর বিপদ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।





