OMG! সহকর্মীর গুলিতে BSF জওয়ানের মৃত্যু, উত্তপ্ত সীমান্ত এলাকায় নতুন প্রশ্ন

যখন মুর্শিদাবাদ জেলার সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় থমথমে শান্তি ফিরিয়ে আনতে মোতায়েন করা হয়েছিল, তখনই এক মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের সহকর্মীর গুলিতে প্রাণ হারালেন এক কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ান। এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযুক্ত বিএসএফ জওয়ানকে ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তার রাইফেলটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদ জেলার সেই স্থানে, যেখানে কয়েক সপ্তাহ আগে এক ভয়াবহ গোষ্ঠী সংঘর্ষের পর শান্তি ফিরিয়ে আনতে বিএসএফ জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছিল। স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই ছিল তাদের প্রধান কাজ। কিন্তু সেই নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই এমন একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটল।

বাদানুবাদ থেকে গুলি: যা জানা যাচ্ছে

পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত জওয়ানের সঙ্গে ১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের বিএসএফ জওয়ান এস.কে. মিশ্রের (রাজস্থানের বাসিন্দা) মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এই বচসা চলাকালীনই এস.কে. মিশ্র তার রাইফেল থেকে একটানা ১৩ রাউন্ড গুলি চালান। গুলির আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ওই জওয়ান। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তদন্তের মুখে অভিযুক্ত জওয়ান

মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত এস.কে. মিশ্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি ডিউটির সময় নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ও বিএসএফের পদস্থ কর্মকর্তারা এই ঘটনার কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নিয়েই এই বচসা চরম আকার ধারণ করেছিল।

স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন, উদ্বেগ

এই ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা, যারা কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলেন, তারা এই ঘটনায় আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাদের প্রশ্ন, যেখানে রক্ষকরাই পরস্পরের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে মুর্শিদাবাদের কয়েকটি এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের পর থেকেই সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে একজন জওয়ানের এই ধরনের মৃত্যু নতুন করে অনেক প্রশ্ন তুলছে। আপাতত সকলের দৃষ্টি তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে। এই ঘটনার পেছনের আসল কারণ কি নিছকই ব্যক্তিগত বিবাদ, নাকি এর গভীরে অন্য কোনো সমস্যা লুকিয়ে আছে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy