“ব্ল্যাক বক্স ও DVR উদ্ধার”-কীভাবে ভয়ানক প্লেন ক্র্যাশ?-এবার জানা যাবে সেই উত্তর

বৃহস্পতিবার আহমেদাবাদের মেঘানিনগরে এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী উড়ান AI171 টেক অফের পরপরই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভেঙে পড়ে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৬৫ জনের মৃত্যু হয়, যা গোটা দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য যখন জোরদার প্রচেষ্টা চলছে, তখনই ইন্ডিয়া টুডে টিভি সূত্রে জানা গেল এক গুরুত্বপূর্ণ খবর – অবশেষে উদ্ধার হয়েছে বিমানের ব্ল্যাক বক্স।

জানা গেছে, বিমানের লেজের দিকে রাখা এই কমলা রঙের ব্ল্যাক বক্সটি গুজরাতের এটিএস (ATS) এবং এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম (AAIT) যৌথভাবে উদ্ধার করেছে। বিশেষত, রেসিডেন্ট ডাক্তারদের হোস্টেলের যে বহুতলের উপর বিমানটি ভেঙে পড়েছিল, সেই বহুতলের ছাদ থেকেই ব্ল্যাক বক্সটি উদ্ধার করা হয়েছে। ব্ল্যাক বক্সের পাশাপাশি, একটি ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (DVR)-ও বিমানের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে এই দুটি ডিভাইস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গুজরাত এটিএসের একজন আধিকারিক জানিয়েছেন, “একটি ডিভিআর আমরা ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করেছি। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি টিম শীঘ্রই এখানে আসবে এবং ডিভাইসটি পরীক্ষা করবে, যা থেকে দুর্ঘটনার ঘটনাগুলির ক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যেতে পারে।” ব্ল্যাক বক্স এবং ডিভিআর থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিমান দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত চিত্র উঠে আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

একমাত্র জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীর ভয়াবহ অভিজ্ঞতা:

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একমাত্র অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন রমেশ বিশ্বাসকুমার বুচারভাদা। ডিডি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রমেশ তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “চোখের সামনেই সবটা হয়েছে। কীভাবে বেঁচে ফিরলাম, নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না। কিছু সময়ের জন্য মনে হয়েছিল, আমিও হয়তো মরে যাব। তারপরে চোখ খুলে দেখি, আমি বেঁচে আছি। সিট বেল্ট খুলে তারপরে বেরোনোর চেষ্টা করি।”

টেক অফের পর ঠিক কী ঘটেছিল, সেই বিষয়ে রমেশ জানান, “টেক অফের পর হঠাৎ ৫-১০ সেকেন্ড মনে হল যেন সব থেমে গেল। তারপরে লাইট জ্বলে যায়। তারপরই ভেঙে পড়ে।” ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “দরজা ভাঙা ছিল, তারপরে বেরোনোর চেষ্টা করি। জানি না, কীভাবে বেঁচে গেলাম। আগুনে আমার বাঁ হাত জ্বলে গিয়েছে।”

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতালে গিয়ে রমেশের সঙ্গে দেখা করেন ও তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। প্রধানমন্ত্রী রমেশের সঙ্গে কথাও বলেছেন।

ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের পর আশা করা হচ্ছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনের রহস্য দ্রুত উন্মোচিত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy