বৃহস্পতিবার বিকেলে আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী ফ্লাইট AI171-এর হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আধুনিক প্রযুক্তির এই বিমানটি, যা মাত্র ১২ বছর পুরনো ছিল, আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভেঙে পড়ে, কেড়ে নেয় ২৬৫টি তাজা প্রাণ। এই ভয়াবহ ঘটনার প্রেক্ষিতেই ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) এক জরুরি নির্দেশ জারি করেছে।
DGCA ১৫ জুন, ২০২৫ মধ্যরাত থেকে ভারত থেকে উড্ডয়নের আগে এয়ার ইন্ডিয়ার সমস্ত বোয়িং ড্রিমলাইনার বিমানের জন্য একটি বাধ্যতামূলক ‘ওয়ানটাইম স্পেশাল চেক প্রসেস’ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশের আওতায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা এখন থেকে প্রতিটি ফ্লাইটের আগে বাধ্যতামূলকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
এই কঠোর পরীক্ষাগুলির মধ্যে রয়েছে:
- ফুয়েল প্যারামিটার মনিটরিং: বিমানের জ্বালানি সংক্রান্ত প্যারামিটারগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
- কেবিন এয়ার কম্প্রেসার সিস্টেম: কেবিন এয়ার কম্প্রেসার সিস্টেমের কার্যকারিতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করতে হবে।
- ইলেকট্রনিক ইঞ্জিন কন্ট্রোল টেস্ট: বিমানের ইলেকট্রনিক ইঞ্জিন কন্ট্রোল সিস্টেম পরীক্ষা করা হবে।
- ইঞ্জিন ফুয়েল অ্যাকচুয়েটর অপারেশন: ইঞ্জিন ফুয়েল অ্যাকচুয়েটর অপারেশনের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
- ফুয়েল সিস্টেম এবং হাইড্রোলিক সিস্টেম সার্ভিস: জ্বালানি এবং হাইড্রোলিক সিস্টেমের পরিষেবাগত দিকগুলো খুঁটিয়ে দেখতে হবে।
এছাড়াও, উড্ডয়নের আগে সমস্ত প্যারামিটার সঠিকভাবে রিভিউ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। DGCA আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, ট্রানজিট পরিদর্শনে ‘ফ্লাইট কন্ট্রোল ইন্সপেকশন’ যোগ করতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে। দুই সপ্তাহের মধ্যে ‘পাওয়ার অ্যাসুরেন্স’ পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
একই সাথে, গত ১৫ দিনে বোয়িং ড্রিমলাইনার বিমানগুলিতে যে বারবার প্রযুক্তিগত ত্রুটি (স্নাগ) দেখা দিয়েছে, সেগুলির একটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব সমস্ত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে DGCA-র এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধ করা যায় এবং যাত্রীদের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। আহমেদাবাদের এই দুর্ঘটনা বোয়িং কোম্পানির ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানের সাথে জড়িত সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে এই নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলি আকাশপথকে আরও নিরাপদ করে তুলবে।