আর পাঁচটা দিনের মতোই বৃহস্পতিবার (১২ জুন, ২০২৫) বিকেলে স্কুল থেকে সবে ফিরেছিল সতেরো বছরের আকাশ। তার মা সীতাবেন রোজের মতোই বিজে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের পাশে তাঁদের ছোট্ট চায়ের দোকান চালাচ্ছিলেন। স্কুলের ব্যাগটা মাটিতে রেখেই বিছানায় বিশ্রাম নিচ্ছিল ছেলেটা। খানিকবাদেই হঠাৎ এক ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! এদিক-ওদিক কিছু বোঝার আগেই আগুনের গোলা গ্রাস করল সবকিছু। চোখের সামনেই জীবন্ত পুড়ে খাক হয়ে গেল মা ও ছেলে।
টেকঅফের ৫ মিনিটেই মৃত্যুপুরী: হোস্টেলের উপর ভেঙে পড়ল বিমান
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩৯ মিনিট নাগাদ আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে ওড়া লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি টেকঅফের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মেঘানিনগরের বিজে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের উপর ভেঙে পড়ে। এই হোস্টেলের পাশেই একটি ছোট চায়ের দোকান চালাতেন সীতাবেন। তার পাশেই তিনি একটি কুঁড়ে ঘর বানিয়ে থাকতেন। মায়ের সঙ্গেই থাকত আকাশ। বৃহস্পতিবার সবে স্কুল থেকে ফিরেছিল সে, বিশ্রাম নিচ্ছিল। দু’ থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ভয়াবহ শব্দ, তারপর সব শেষ। মা-ছেলে দু’জনই ঘটনাস্থলে ঝলসে মারা যান।
প্রতিবেশী এক মহিলা শোকাহত কণ্ঠে বলেন, “হোস্টেলের পাশেই ওরা চায়ের দোকান চালাতেন। তারপর কালকের দুর্ঘটনা ঘটে। আর কেউ বেঁচে নেই।”
২৪১ জনের মৃত্যু, একজন অলৌকিকভাবে জীবিত: প্রধানমন্ত্রীর শোকপ্রকাশ
এই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় বিমানের ২৪২ জন আরোহীর মধ্যে ২৪১ জনই প্রাণ হারিয়েছেন। একজন যাত্রী অলৌকিকভাবে বেঁচে থাকার খবর মিলেছে। বিমানটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভেঙে পড়ায় হোস্টেলের একাধিক জুনিয়র ডাক্তারের মৃত্যু হয়েছে। আশপাশে থাকা আরও অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে খবর।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং নিহতদের প্রতি শোকপ্রকাশ করেছেন। সীতাবেন ও আকাশের মতো নিরপরাধ মানুষের এমন করুণ পরিণতি আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার শোককে আরও গভীর করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা কি আমাদের মনে করিয়ে দেবে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কতটা অনিশ্চিত?