গুজরাটের আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি বৃহস্পতিবার টেকঅফের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। ২৩০ জন যাত্রী-সহ মোট ২৪২ জন আরোহী ছিলেন ওই বিমানে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার আবহে বিমান দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তরা কীভাবে বিমার টাকা পেতে পারেন এবং ট্রাভেল ইনস্যুরেন্সের গুরুত্ব কতটা, তা বিস্তারিত জানা জরুরি হয়ে উঠেছে।
এয়ারলাইন্সের দায়বদ্ধতা: মন্ট্রিল কনভেনশন অনুযায়ী ১.৪০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ
ভারতে কোনো বিমান দুর্ঘটনা ঘটলে এয়ারলাইন্স বা উড়ান সংস্থা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য। এই ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ১৯৯৯ সালের মন্ট্রিল কনভেনশন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, কারণ ভারত এই কনভেনশনের একটি স্বাক্ষরকারী দেশ।
এই কনভেনশন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মৃত বা গুরুতর আহত যাত্রীকে ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৮২১ স্পেশাল ড্রইং রাইটস (SDRs) দিতে হবে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। যদি দুর্ঘটনার পিছনে এয়ারলাইন্সের গাফিলতি প্রমাণিত হয়, সে ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বাধ্যতামূলক। তবে ডোমেস্টিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে উড়ান সংস্থাগুলো ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)-এর গাইডলাইন মেনেও ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে।
ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স: দুর্যোগে বন্ধুর মতো অতিরিক্ত সুরক্ষা
উপরোক্ত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি, যদি কোনো ব্যক্তির ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স করা থাকে, তাহলে তিনি বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন:
দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা অঙ্গহানি: অধিকাংশ ট্রাভেল বিমাতেই দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যু হলে ২৫ লক্ষ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বিমার সুরক্ষা পাওয়া যায়। আবার, স্থায়ীভাবে অঙ্গহানি হলে ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
চিকিৎসার খরচ: দুর্ঘটনার জেরে জরুরি পরিস্থিতিতে হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসার খরচ বিমার আওতায় পাওয়া যায়।
ফ্লাইট বাতিল বা দেরি: বিমা থাকলে ফ্লাইটের দেরি বা বাতিল হলেও বিমার টাকা পেতে পারেন, যা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে আর্থিক সহায়তা দেয়।
ব্যাগ হারানো: ফ্লাইটে ব্যাগেজ হারিয়ে গেলেও ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স থাকলে ক্ষতিপূরণ মিলতে পারে।
ইনস্যুরেন্স না থাকলে কী হবে?
যদি কোনো যাত্রীর ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স না থাকে, তাহলে তিনি হয়তো বিমা সংক্রান্ত অতিরিক্ত সুবিধাগুলো পাবেন না। তবে কিছু নির্দিষ্ট সুবিধা পেতে তার কোনো বাধা নেই:
এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের ক্ষতিপূরণ: এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের দেওয়া মন্ট্রিল কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।
সরকার ঘোষিত সুবিধা: যদি সরকার কোনো ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করে, তবে সেটাও পাওয়ার যোগ্য হবেন।
বিজনেস ট্রাভেলারদের জন্য: যারা অফিসের কাজে ভ্রমণ করছিলেন, তারা যে সংস্থায় চাকুরিরত, সেখান থেকে বিমার সুবিধা পেতে পারেন, যদি তাদের কোম্পানির পলিসি থাকে।
ক্রেডিট কার্ড লিঙ্কড ইনস্যুরেন্স: নির্দিষ্ট কিছু প্রিমিয়াম ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে উড়ানের টিকিট কাটলে ক্রেডিট কার্ড লিঙ্কড ট্রাভেল ইনস্যুরেন্সের সুবিধা পেতে পারেন।
আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার মতো বিপর্যয় আবারও ট্রাভেল ইনস্যুরেন্সের অপরিহার্যতার উপর জোর দিচ্ছে। অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে এটি যাত্রীদের এবং তাদের পরিবারকে আর্থিক সুরক্ষা দিতে পারে, যা জীবনের অনিশ্চয়তার মুখে এক বড় ভরসা। এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য বিমা কতটা জরুরি।