ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক বিস্ফোরক বার্তা দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে সাড়া ফেলেছে। কুখ্যাত জঙ্গি নেতা ওসামা বিন লাদেনের পাকিস্তানে আত্মগোপন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি, এবং স্পষ্ট ভাষায় ইউরোপকে সতর্ক করেছেন পাক-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে। তার মতে, আজ যারা এই সন্ত্রাসবাদ দেখেও চুপ থাকছে, একদিন এই বিভীষিকা তাদেরও তাড়া করবে।
লাদেনের প্রসঙ্গ, পাকিস্তানের জঙ্গি-যোগ
ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যম Euractiv-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “এক ব্যক্তি ছিলেন, নাম ছিল ওসামা বিন লাদেন। তিনি কেন সব দেশ ছেড়ে পাকিস্তানে আশ্রয় নিলেন? পাকিস্তানের সেনা শহর ওয়েস্ট পয়েন্ট-এর বাইরে এতগুলো বছর নিশ্চিন্তে কাটাতে পারলেন?” এই প্রশ্ন তুলে তিনি পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদের গভীর শিকড় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।
সম্প্রতি পহেলগামের জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটককে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে জয়শঙ্কর বলেন, “এই ঘটনা শুধু ভারতের সমস্যা নয়। আমি চাই গোটা বিশ্ব বুঝুক, এই সন্ত্রাসবাদ একদিন আপনাদেরকেও তাড়া করবে।” তার এই মন্তব্য বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাকেই তুলে ধরেছে।
কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ঠিক এক মাস পর ইউরোপ সফরে গিয়েছেন জয়শঙ্কর। ব্রাসেলসে তিনি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন এবং ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন-এর বৈদেশিক নীতির প্রধান কায়া কালাস-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এই বৈঠকগুলিতে তিনি ইউরোপের কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন।
Euractiv-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেছেন, “ভারত একশো চল্লিশ কোটি মানুষের দেশ। দক্ষ শ্রমশক্তি রয়েছে। চিনের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক অংশীদার হতে পারে আমাদের দেশ।” এই মন্তব্য চীনের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবের বিপরীতে ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও নির্ভরযোগ্যতাকে তুলে ধরে।
পশ্চিমের ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে প্রশ্ন
এদিন বিদেশমন্ত্রী পশ্চিমি দেশগুলিকে কার্যত তুলোধোনা করেন। স্বাধীনতার পর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের স্বাধীনতার কয়েক মাসের মধ্যেই তারা সীমান্ত লঙ্ঘন করেছিল। যারা তখন চুপ ছিল বা আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল, তারা আজ কী ভাবে নৈতিকতার কথা বলে?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে জয়শঙ্কর পশ্চিমী দেশগুলির অতীত দ্বিচারিতাকে স্মরণ করিয়ে দেন এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের ‘নৈতিক’ অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন।
জয়শঙ্করের এই ইউরোপ সফর এবং তার কড়া মন্তব্যগুলি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের দৃঢ় অবস্থান এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বৈশ্বিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। এই বার্তাগুলি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।