মেঘালয় ‘হানিমুন মার্ডার’ রহস্যে নতুন মোড়, জিতেন্দ্র কে? সোনমের সঙ্গে কী সম্পর্ক?

ইন্দোরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীকে মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে একের পর এক। ইতিমধ্যেই এই মামলার মূল অভিযুক্ত স্ত্রী সোনম রঘুবংশী এবং তার প্রেমিক রাজ কুশওয়াহাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার মেঘালয় আদালত তাদের আটদিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এবার তদন্তে নতুন করে উঠে আসছে জিতেন্দ্র রঘুবংশী নামের এক ব্যক্তির নাম, যার অনলাইন অ্যাকাউন্ট সোনম টাকা লেনদেনের জন্য ব্যবহার করতেন বলে জানা গেছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কে এই জিতেন্দ্র এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক?

টাকার লেনদেন ও আত্মীয়তার সূত্র
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, সোনম এই ধৃত জিতেন্দ্রর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে গত ২৩ মে রাজাকে খুনের জন্য সুপারি কিলারদের টাকা পাঠিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে সোনমের ভাই গোবিন্দ এক বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, “সোনমের খুড়তুতো ভাই জিতেন্দ্র। তাঁরই ইউপিআই অ্যাকাউন্ট সোনম ব্যবহার করেন।” তবে, কেন সোনম নিজের নামে থাকা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করে জিতেন্দ্রর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলেন, এই প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি গোবিন্দ। এই বিষয়টিই তদন্তকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

পারিবারিক ব্যবসা ও ‘কালো টাকা’র গন্ধ?
জিতেন্দ্র রঘুবংশী সোনমের পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। এই তথ্য সামনে আসার পর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তাদের পারিবারিক ব্যবসায় কালো টাকার লেনদেন হয়? যদিও গোবিন্দ এই সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “হাওয়ালার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। জিতেন্দ্র আমাদের খুড়তুতো ভাই এবং ব্যবসাও দেখেন। ওঁর কাছে থাকা অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যবসার কাজের জন্য টাকা তোলা হয়।” গোবিন্দের এই দাবি কতটা সত্য, তা তদন্তসাপেক্ষ।

পরিবারের ক্ষমা ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই
গত মঙ্গলবার গোবিন্দ ইন্দোরে রাজার বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। সেখানে তিনি জানান, “আমি গাজিপুরে সোনমের সঙ্গে দুই মিনিট পেয়েছিলাম। আমি ওকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তুমি কি এ কাজ করেছ? ওর প্রতিক্রিয়াই আমাকে সবটা বলে দিচ্ছিল।” গোবিন্দ আরও দাবি করেন যে, তার পরিবার সোনমের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং তারা রাজের পরিবারের পাশে সুবিচার পাওয়ার লড়াইয়ে রয়েছেন।

স্বীকারোক্তি থেকে নতুন দিকের উন্মোচন
এর আগে পুলিশি জেরায় সোনম কাঁদতে কাঁদতে স্বীকার করেছিলেন, “আমিই খুনের প্ল্যান করেছিলাম।” এই স্বীকারোক্তি এবং এখন জিতেন্দ্রর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসায় তদন্ত নতুন গতি পেয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, জিতেন্দ্র এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা বা টাকা লেনদেনের বিষয়ে কতটা অবগত ছিলেন। সোনম কেন নিজের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করে জিতেন্দ্রর অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলেন, এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এই নতুন তথ্য ‘মেঘালয় হানিমুন মার্ডার কেস’-কে আরও জটিল করে তুলেছে এবং পুলিশ ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কারা জড়িত, এবং সম্পূর্ণ রহস্য উদঘাটনে কত সময় লাগবে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy