‘বেশি ঘুমালেই মোটা হয়?’ গবেষণা বলছে সম্পূর্ণ উল্টো কথা!

“আর ঘুমাস না। বেশি ঘুমিয়েই মোটা হচ্ছিস!” – মায়ের মুখে এমন কথা শোনেননি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া কঠিন। বেশিরভাগ মানুষের মনেই বদ্ধমূল ধারণা যে, অতিরিক্ত ঘুম, বিশেষ করে দুপুরের ভাত ঘুম, ওজন বাড়ায়। কিন্তু এই ধারণা কি সত্যিই সঠিক? দেহের ওজনের সঙ্গে কি ঘুমের আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে? সম্প্রতি এক নতুন গবেষণা এই প্রচলিত ধারণাকে পুরোপুরি উল্টে দিয়েছে।
গবেষণা কী বলছে?
ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব লিডিসের বিজ্ঞানীরা ঘুম এবং মেদের সম্পর্ক নিয়ে একটি বিশদ গবেষণা চালিয়েছেন। এই গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বর্তমানে ১৯৮০ সালের তুলনায় স্থূলতা বা ওবেসিটির শিকার মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে টাইপ টু ডায়াবেটিসের মতো সমস্যার প্রকোপ। এর পেছনে ঘুমের ভূমিকা কতটুকু, সেটাই ছিল বিজ্ঞানীদের মূল অনুসন্ধানের বিষয়।
কম ঘুমই কি ওজন বাড়ার কারণ?
এই গবেষণায় ১৬১৫ জন পূর্ণবয়স্ক মানুষের খাদ্যতালিকা এবং প্রতিদিনের গড় ঘুমের সময় খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। ‘প্লাস ওয়ান’ নামক জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার ফল শুনলে অনেকেই অবাক হবেন। গবেষণা অনুযায়ী, বেশি ঘুম নয়, বরং কম ঘুমই মেদ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে গড়ে ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন, তাদের কোমরের মাপ প্রতিদিন নয় ঘণ্টা ঘুমানো মানুষের তুলনায় তিন সেন্টিমিটার বেশি! অর্থাৎ, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দেহে মেদ জমার এবং ওজন বাড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ায় কম ঘুম
শুধু ওজন বৃদ্ধিই নয়, গবেষণা আরও বলছে যে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। গবেষকদের দাবি, প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে তার কতটা ঘুম জরুরি। তবে, সাধারণভাবে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দিনে অন্তত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ভালো ঘুম প্রয়োজন। এর কম ঘুম হলে ওজন বাড়ার আশঙ্কা প্রবল।
তাহলে কি বলা যায়, বেশি ঘুম মেদ বাড়ার কারণ? এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছেন, মোটেও না! বরং উল্টোটাই সত্য। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও গভীর গবেষণা হলে ঘুমের সঙ্গে ওজন বৃদ্ধির সঠিক সম্পর্ক আরও পরিষ্কার হবে বলে তারা মনে করেন। তাই এবার থেকে কেউ যদি আপনাকে বেশি ঘুমানোর জন্য মোটা হওয়ার কথা বলেন, তবে এই গবেষণার কথা মনে করিয়ে দিতে পারেন!