হাঁটু-কনুইয়ের কালচে ছোপ? ঘরোয়া উপায়েই পান উজ্জ্বল ত্বক!

শরীরের বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে হাঁটু, কনুই কিংবা গোড়ালির উপরে কালচে ছোপ অনেকেরই উদ্বেগের কারণ। এই কালচে দাগের কারণে অনেক সময় পছন্দের পোশাকও পরা হয় না। নানা ধরনের ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করেও যখন এই নাছোড়বান্দা দাগ থেকে মুক্তি মেলে না, তখন ঘরোয়া উপায়ই সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক তেমনই ৩টি কার্যকর উপায়:
১. অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার: প্রাকৃতিক ব্লিচের কাজ করে
ত্বকের যত্নে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার বেশ কার্যকরী। এটি ত্বকের কালচে ছোপ দূর করতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যাসিডিক কম্পাউন্ড অনেকটা প্রাকৃতিক ব্লিচের মতো কাজ করে। এর মানে এই নয় যে, এটি ব্যবহারে আপনার হাঁটু, কনুই বা গোড়ালির চামড়া উঠে যাবে! বরং এটি ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে অর্থাৎ মৃত কোষ দূর করে কালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে।
ব্যবহার পদ্ধতি: কালচে ছোপ দূর করার জন্য সম পরিমাণ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এবং জল মিশিয়ে নিন। এবার একটি পরিষ্কার তুলোর সাহায্যে সেই মিশ্রণ হাঁটু, কনুই বা গোড়ালির যেখানে কালো দাগ-ছোপ আছে, সেখানে ভালো করে লাগিয়ে নিন। এভাবে মিনিট পনেরো রেখে দিন। এরপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন এটি ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে কালচে ভাব দূর হয়ে যাবে।
২. নারকেল তেল: আর্দ্রতা ও পুষ্টি যোগায়
কেবল চুলের যত্নেই নয়, ত্বকের যত্নেও সমান কার্যকরী হলো নারকেল তেল। ত্বক থেকে কালচে ছোপ দূর করার জন্য এই তেল দারুণভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং পুষ্টি যোগাতে এই তেলের তুলনা নেই।
ব্যবহার পদ্ধতি: হাঁটু, কনুই এবং গোড়ালিতে যে কালচে দাগ হয়, তা দূর করার ক্ষেত্রে এই তেল বিশেষ কার্যকর। এক টেবিল চামচ নারকেল তেলের সঙ্গে এক টেবিল চামচ আখরোট পাউডার মিশিয়ে নিন। গোসলের আগে এই স্ক্রাবটি কালো দাগের স্থানে আলতো করে মালিশ করুন। গোসলের পরেও হাঁটু, কনুই এবং গোড়ালিতে সামান্য নারকেল তেল দিয়ে মালিশ করুন। এই স্ক্রাব সপ্তাহে তিনদিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।
৩. অ্যালোভেরা জেল: কোমল ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য
রূপচর্চায় অ্যালোভেরা জেলের ব্যবহার নতুন নয়। ত্বকের নানা ধরনের যত্নে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি শুধু ত্বকের দাগ-ছোপ দূরই করে না, ত্বককে কোমল এবং উজ্জ্বল করতেও সাহায্য করে। অনেকে আছেন যারা অ্যালোভেরার পাতা কেটে তার থেকে সরাসরি জেল বের করে ত্বকে ব্যবহার করেন। তবে ভুলেও এটি করবেন না, কারণ এভাবে সরাসরি ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
ব্যবহার পদ্ধতি: এর বদলে ভালো কোনো অর্গানিক অ্যালোভেরা জেল কিনে সেটি হাঁটু, কনুই বা গোড়ালিতে মালিশ করে নিন। এভাবে মিনিট বিশেক রেখে হালকা গরম জলে ধুয়ে নেবেন। দিনে দুইবার এভাবে ব্যবহার করলে আপনি ভালো উপকার পাবেন এবং ত্বক হবে নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল।