মাথার একপাশে তীব্র ব্যথা? সাধারণ মাথাব্যথা নাকি গুরুতর রোগের ইঙ্গিত?

মাথার একপাশে ব্যথা হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, কখনও কখনও এটি গুরুতর কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় এটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা ‘ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়া’র কারণে দেখা দিতে পারে। মাথার ত্বকে থাকা ‘ট্রাইজেমিনাল’ স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই সমস্যা তৈরি হয়। এই স্নায়ুর কাজ হলো চেহারায় সৃষ্ট অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছানো। আর এই কাজে বাধা তৈরি হলে চেহারা ও মাথার একপাশে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

এছাড়াও মাথার একপাশে ব্যথার আরও কিছু কারণ রয়েছে:

স্নায়ুভিত্তিক কারণ:
অ্যাকসিপিটাল নিউরালজিয়া: এটি একটি স্নায়ুভিত্তিক মাথাব্যথা, যেখানে ব্যথার অনুভূতিটা হয় দপ-দপানিযুক্ত। স্নায়ুভিত্তিক কারণে মাথা ব্যথা হলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো কিংবা কোনো কিছু মাথা ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করছে এমন তীব্র অনুভব হয়ে থাকে।
অন্যান্য শারীরিক কারণ:
টেমপোরাল আর্টেরাইটিস: এটি মাথাব্যথার একটি বিশেষ ধরন। এই মাথাব্যথার কারণ হলো মাথা ও ঘাড়ে থাকা স্নায়ু প্রদাহের শিকার হয় এবং তার কারণে মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয়। এই অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তির মাথার যেকোনো পাশে ব্যথা হতে পারে। সেই সঙ্গে দেখা দিতে পারে পেশি ব্যথা, অবসাদ ও চোয়াল ব্যথা।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও মাথার একপাশে ব্যথা হতে পারে। এমন কিছু ওষুধ হলো ‘অ্যাসিটামিনোফেন’, ‘অ্যাসপিরিন’, ‘আইবুপ্রোফেন’ ইত্যাদি।

অন্যান্য রোগ: এছাড়াও অ্যালার্জি, অবসাদ, ক্লান্তি, মাথায় আঘাত পাওয়া, সংক্রামক রোগ, টিউমার ইত্যাদির প্রভাবেও মাথার একপাশে ব্যথা দেখা দিতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
মাথাব্যথা যদি নিয়মিত অনুভব করতে থাকেন এবং এর সঙ্গে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে:

দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন আসা
দ্বিধাগ্রস্ততা বা মানসিক বিভ্রান্তি
জ্বর
ঘাড় আটকে যাওয়া বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
শারীরিক দুর্বলতা বৃদ্ধি পাওয়া
মাথাব্যথাকে কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়, বিশেষ করে যদি তা অস্বাভাবিক বা দীর্ঘস্থায়ী হয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করলে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

আপনার যদি মাথার একপাশে তীব্র বা অস্বাভাবিক ব্যথা হয়, তবে দেরি না করে একজন নিউরোলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।