মুখের অবাঞ্ছিত লোম তুলতে পার্লারে যাওয়ার আগে, এই টিপসগুলি না মানলে ত্বকের ক্ষতি অনিবার্য!

মুখের অতিরিক্ত লোম অনেক মহিলার জন্যই অস্বস্তির কারণ। এই সমস্যা সমাধানে অনেকেই পার্লারের শরণাপন্ন হন অথবা বাড়িতে বিভিন্ন ফেসিয়াল কিট ব্যবহার করেন। তবে মুখের লোম তোলার আগে কিছু বিশেষ টেকনিক মেনে চলা জরুরি, অন্যথায় ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। মুখের ত্বক শরীরের অন্যতম সংবেদনশীল অংশ, তাই এর সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখের লোম তুলতে গিয়ে কমবেশি সকলেই কিছু ভুল করে থাকেন। সেই ভুলগুলি যাতে ভবিষ্যতে আপনার সৌন্দর্যহানি না ঘটায়, সেই বিষয়ে কিছু জরুরি টিপস নিয়ে হাজির কলকাতা ২৪x৭।

বিভিন্ন পদ্ধতিতে মুখের লোম তোলা হয়ে থাকে এবং প্রতিটি পদ্ধতির জন্যই রয়েছে বিশেষ টিপস:

১) লেজার হেয়ার রিমুভাল (Laser Hair Removal): লেজার ট্রিটমেন্টের ফল দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ভবিষ্যতে লোমের বৃদ্ধিও অনেকটা কমিয়ে দেয়। মোটা লোম না গজানোর অন্যতম কারণ এই লেজার রিমুভাল। এছাড়াও, এই পদ্ধতিতে ত্বকে তেমন ব্যথাও লাগে না। তবে কোনো নামী ও অভিজ্ঞ জায়গা থেকে এই লেজার রিমুভাল না করালে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। মুখের ত্বক যেহেতু অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই এক্সপার্টের তত্ত্বাবধান ছাড়া এই পদ্ধতিতে না যাওয়াই ভালো। কারণ এই পদ্ধতি যথেষ্ট ব্যয়সাপেক্ষও বটে। পরবর্তীকালে অনুশোচনা এড়াতে ত্বক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা করেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত।

২) শেভিং (Shaving): হেয়ার রিমুভালের ক্ষেত্রে শেভিংয়ের চেয়ে দ্রুত পদ্ধতি আর কিছু নেই। তবে এই পদ্ধতির কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। তাড়াহুড়োয় শেভ করতে গিয়ে ত্বক কেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়াও, শেভিংয়ের পর খুব দ্রুত লোম গজিয়ে যাওয়ার সমস্যাও রয়েছে। এই পদ্ধতি একেবারেই দীর্ঘস্থায়ী নয়, কয়েক দিনের মধ্যেই আবার শেভ করার প্রয়োজন হয়। তবে সঠিক টেকনিকে রেজর ব্যবহার করলে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। রেজর দিয়ে শেভ করার পর অবশ্যই একটি ভালো মানের লোশন ব্যবহার করুন, যা আপনার ত্বককে মসৃণ ও নরম রাখবে এবং জ্বালাভাব কমাবে।

৩) থ্রেডিং (Threading): মুখের লোম তোলার জন্য থ্রেডিং পদ্ধতিটি বহু মহিলারই প্রথম পছন্দ। তবে এটি বেশ ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘস্থায়ীও নয়। একবার থ্রেডিং করানোর দু’দিনের মধ্যেই আবার লোম গজাতে শুরু করে। এছাড়াও, এক এক মহিলার ত্বক এক এক রকম হওয়ার কারণে থ্রেডিং পদ্ধতিতে ত্বকের খানিকটা ক্ষতি হতে পারে। যাদের ত্বক খুব বেশি সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে সহজেই খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। ভুল পদ্ধতিতে থ্রেড করলে মুখের বিভিন্ন জায়গায় কেটে যেতে পারে।

৪) ওয়্যাক্সিং (Waxing): ওয়্যাক্সিংয়ের একটি ভালো দিক হল এটি ত্বকের ভেতরের স্তর থেকেও মুখের লোম তুলে আনে, ফলে লোম গজাতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে। অনেক দিন পর ওয়্যাক্সিং করালেও তেমন অসুবিধা হয় না। তবে ওয়্যাক্সিং ত্বকে বেশ ব্যথা সৃষ্টি করে, বিশেষ করে মুখের লোম তোলার সময় আরও বেশি ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এছাড়াও, ত্বকের অন্যান্য অংশে যেখানে সাধারণত অতিরিক্ত লোম দেখা যায় না, ওয়্যাক্সিংয়ের কারণে সেখানেও লোম গজাতে শুরু করতে পারে।

সুতরাং, মুখের লোম তোলার জন্য যেকোনো পদ্ধতি বেছে নেওয়ার আগে ত্বকের ধরন এবং পদ্ধতির সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। তাড়াহুড়ো করে ভুল পদ্ধতি বেছে নিলে আপনার ত্বকের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তাই সচেতন থাকুন এবং ত্বকের যত্ন নিন।