সুস্থ থাকতে কতটা জল পান করা জরুরি? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের মতামত

সুস্থ ও ফিট থাকার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা অপরিহার্য। জল আমাদের শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু প্রশ্ন হল, শরীরকে সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখতে প্রতিদিন ঠিক কতটা জল পান করা উচিত? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর অনেকেরই অজানা।
শরীরে জলের অভাব হলে ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মুখ ও গলা শুকিয়ে যাওয়া, শুকনো কাশি, নিম্ন রক্তচাপ, পায়ে ফোলাভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং গাঢ় রঙের প্রস্রাবের মতো একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল পান করলে তা ‘ওভারহাইড্রেশন’-এর কারণ হতে পারে। এর লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের অভাব, বমি বমি ভাব, হাত-পায়ের রঙের পরিবর্তন, পেশিতে খিঁচুনি, মাথাব্যথা এবং ক্লান্তি।
হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের মতে, একজন ব্যক্তির ঠিক কতটা জল প্রয়োজন তা নির্ভর করে তার বয়স, শারীরিক কার্যকলাপ, লিঙ্গ, পরিবেশের তাপমাত্রা এবং শরীরের ওজনের উপর। তবে সাধারণভাবে বিশেষজ্ঞরা প্রতি ঘন্টায় ২ থেকে ৩ কাপ জল পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
যদি আবহাওয়া গরম থাকে অথবা আপনি ব্যায়াম করেন, তবে এই জলের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাধারণত দিনে ২-৩ লিটার জল পান করা প্রয়োজন।
তবে, শুধুমাত্র পরিমাণের উপর নির্ভর না করে, আপনি আপনার প্রস্রাবের রং দেখেও বুঝতে পারবেন যে আপনি যথেষ্ট জল পান করছেন কিনা। যদি আপনার প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হয়, তবে এটি ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ হতে পারে, অর্থাৎ আপনার আরও বেশি জল পান করা প্রয়োজন। একই সময়ে, যদি আপনার প্রস্রাবের রং ঘন ঘন সাদা হয়, তবে এটি অতিরিক্ত হাইড্রেশনের লক্ষণ হতে পারে।
অতএব, নিজের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে জল পান করা সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি। নিজের শারীরিক অবস্থা এবং পরিবেশের কথা মাথায় রেখে জলের পরিমাণ নির্ধারণ করুন এবং সুস্থ থাকুন।