ওজন কমাতে মরিয়া? এই ৫ ভুল এড়িয়ে চলুন, দেখবেন ফল পাবেন হাতেনাতে!

শুধু মনে মনে ওজন কমালেই হবে না। এই কঠিন কাজটি সফল করতে চাইলে সঠিক ডায়েট এবং শরীরচর্চার রুটিন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হয়। তবেই আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল, হৃদরোগ, স্ট্রোক, থাইরয়েড এবং বিভিন্ন বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। পিসিওডি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এমনকি বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই ওজন কমানো অত্যাবশ্যক।

তবে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কঠোর চেষ্টা করার পরেও ওজন কমতে চায় না। এর কারণ হল তাদের কিছু ভুল অভ্যাস। চেষ্টা করেও ওজন না কমলে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন এবং মাঝপথে হাল ছেড়ে দেন। কিন্তু প্রিয় পাঠক, হাল ছাড়লে চলবে না! বরং ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় কোথায় ভুল হচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। তাহলেই দেখবেন ওজন কমছে দ্রুত। আসুন, সেই ভুলগুলো জেনে নেওয়া যাক:

(১) ক্যালোরির হিসাব না রাখা: ওজন কমাতে হলে প্রথমেই আপনাকে ক্যালোরির হিসাব রাখতে হবে। প্রতিটি খাবার গ্রহণের সময় ক্যালোরি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। ধরুন, আপনার দৈনিক ক্যালোরি চাহিদা ১৬০০। ওজন কমাতে চাইলে প্রতিদিন ১৪০০ ক্যালোরির মতো খাবার গ্রহণ করতে হবে। প্রতিদিন ২০০ ক্যালোরি ঘাটতি রাখতে পারলেই ওজন কমবে। কিন্তু অনেকেই এই কাজটি সঠিকভাবে করেন না এবং যা খুশি তাই খান। ফলে ওজন বাড়ে।

(২) শরীরচর্চায় ফাঁকিবাজি: ওজন কমানো মোটেও সহজ কাজ নয়। এর জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়। প্রতিদিন ব্যায়াম করা অপরিহার্য। তবে অনেকেই ব্যায়ামের সময় ফাঁকি দেন। লোক দেখানোর জন্য জিমে যান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটান, কিন্তু ব্যায়াম করেন হয়তো ১৫ মিনিট। বাকি সময় গল্পগুজবে কাটিয়ে দেন এবং আশা করেন ওজন কমে যাবে। এতে কি আদৌ ওজন কমবে?

(৩) নিত্যদিন ওজন মাপা: ওজন একদিন বা দুইদিনে কমবে না। তাই প্রতিদিন ওজন মাপার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। পাঁচ দিন ব্যায়াম করে যদি কেউ মনে করেন এক কেজি ওজন কমে যাবে, তবে তারা ভুল করছেন। এই অল্প সময়ে শরীর থেকে তেমন মেদ নাও ঝরতে পারে। ওয়েট মেশিনে একই ওজন দেখলে মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক এবং ব্যায়াম ও ডায়েট ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত ওজন মাপার ভুল আর করবেন না।

(৪) পর্যাপ্ত প্রোটিন না খাওয়া: ওজন কমাতে চাইলে অন্যান্য খাবারের চেয়ে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হয়। হেলথলাইন জানাচ্ছে, প্রোটিন গ্রহণ বাড়ালে খিদে কম পায়, পেট ভরা থাকার অনুভূতি হয়, ওজন তেমন বাড়ে না, পেশি তৈরি হয়, মেটাবলিজম বাড়ে এবং মাসল-ফ্যাট অনুপাত ঠিক থাকে। তাই ওজন কমাতে চাইলে অবশ্যই প্রোটিন গ্রহণ বাড়াতে হবে। তবে অনেকের ডায়েটে প্রোটিনের পরিমাণ কম থাকে, ফলে ওজনও কমে না।

(৫) ফাইবার যুক্ত খাবারে অরুচি: মনে রাখবেন, ওজন কমাতে প্রোটিনের পাশাপাশি ফাইবার যুক্ত খাবারও খেতে হবে। আপনার ডায়েটে যত বেশি ফাইবার থাকবে, ওজন কমার সম্ভাবনা তত বেশি। তাই ওজন কমানোর সময় ওটস, ডালিয়া ও আটার রুটি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে অনেকেই এই ধরনের খাবার পছন্দ করেন না, যার ফলে ওজন যেখানে ছিল সেখানেই রয়ে যায়।

সতর্কীকরণ: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।