অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেছেন? শারীরিক অস্বস্তি কমাতে এই কাজগুলো করুন

মুখরোচক খাবার সামনে পেলে বা বেশি ক্ষুধা লাগলে অনেকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না এবং অতিরিক্ত পরিমাণে খেয়ে ফেলেন। দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস এর অন্যতম প্রধান কারণ। খাবার শুরু করার অন্তত ২০ মিনিটের মধ্যে মস্তিষ্ক পেট ভরার সংকেত দিলেও, তাড়াহুড়ো করে খাওয়ার কারণে মস্তিষ্ক ঠিকমতো বুঝতে পারে না কতটা খাওয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করা হয়ে যায়।

অতিরিক্ত খাওয়ার পর শরীরে নানা ধরনের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে, যেমন পেট ফুলে থাকা, শ্বাসকষ্ট, পেটে ব্যথা ইত্যাদি। এই ধরনের শারীরিক সমস্যা এড়াতে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। চলুন জেনে নেওয়া যাক অতিরিক্ত খাওয়ার পর কী করা উচিত:

কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত খাওয়ার পর কখনোই কোমল পানীয় পান করা উচিত নয়। এর ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

দুশ্চিন্তা না করে বিশ্রাম নিন: বেশি খেয়ে ফেললে অনেক সময় অপরাধবোধ কাজ করে। তবে দুশ্চিন্তা না করে বরং বিশ্রাম নিন এবং নিজেকে আরাম দিন।

খাওয়ার পরপরই শোবেন না: অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের পর কখনোই শুয়ে পড়া উচিত নয়। এর ফলে খাবার হজম হতে সমস্যা হবে এবং অ্যাসিডিটি বেড়ে যাবে। পেট ফুলে যাওয়া এবং বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হাঁটাহাঁটি করুন: অতিরিক্ত খাবার চিনি হিসেবে রক্তে প্রবেশ করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই অতিরিক্ত খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করুন। এতে খাবার দ্রুত হজম হবে।

জল পান করুন: পেট ভর্তি থাকলেও অল্প অল্প করে জল পান করুন। এটি খাবারের মাধ্যমে শরীরে জমা হওয়া অতিরিক্ত লবণের মাত্রা কমাতে সাহায্য করবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেবে। পাশাপাশি শরীরকে আর্দ্র রাখবে।

পেট ভরতি লাগলে খাওয়া থামান: খাওয়ার সময় যখনই মনে হবে আপনি অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেছেন, তখনই খাওয়া বন্ধ করুন। অনেকেই পেট ভরে গেলেও প্লেটের খাবার শেষ করার উপর জোর দেন। এমন করা উচিত নয়।

কিছুক্ষণ পর ব্যায়াম করুন: খাওয়ার পর অন্তত ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর হালকা ব্যায়াম করুন। এর ফলে অতিরিক্ত ক্যালোরি দ্রুত বার্ন হবে এবং শারীরিক অস্বস্তি থেকেও মুক্তি পাবেন। নিয়মিত ব্যায়াম মেজাজ ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।

পরবর্তী খাবারের পরিকল্পনা করুন: অতিরিক্ত খাওয়ার পর আপনার পরবর্তী খাদ্যতালিকায় কী রাখবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। অবশ্যই কম ক্যালোরির খাবার খান এবং নির্দিষ্ট সময়ে খাবার গ্রহণ করুন।

মনোযোগ দিয়ে খান: খাবার খাওয়ার সময় সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। অনেকেই খাওয়ার সময় গল্প করেন বা ফোন ও টিভির দিকে তাকিয়ে থাকেন। এর ফলে অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায় এবং খাবারের স্বাদও ঠিকমতো উপভোগ করা যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত খাওয়া এড়াতে মনোযোগ সহকারে খাবার খাওয়া উচিত।

অতিরিক্ত অস্বস্তি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন: অতিরিক্ত খাওয়ার পর যদি বমি বমি ভাব বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর সমস্যা হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ধীরে ধীরে খান: খাওয়া শুরু করার ২০ মিনিটের মধ্যে মস্তিষ্ক সক্রিয় হয়ে ওঠে, তাই প্রথম ১০ মিনিট খুব ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া উচিত। একবার খাবার মুখে নিয়ে অন্তত ৯০ বার চাবানো উচিত। ধীরে ধীরে খাবার খেলে কম ক্যালোরি গ্রহণ করা হয় এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

অতিরিক্ত খাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, এর থেকে মুক্তি পাওয়া এবং শারীরিক অস্বস্তি কমানোর জন্য সচেতন থাকা জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।