শুধু ব্রাশ নয়, দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি

অনেকেই মনে করেন, কেবল দু’বেলা দাঁত মাজলেই দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে এটা প্রাথমিক শর্ত হলেও, এর পরেও দাঁতে নানা রোগ বাসা বাঁধতে পারে। তাই দাঁতের সঠিক যত্নের জন্য নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অপরিহার্য। কারণ শুধু ব্রাশ করলে দাঁতের বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত হলেও, সম্পূর্ণভাবে দাঁত পরিষ্কার হয় না। আর এটাই দাঁতের আসল যত্ন।

দাঁতের সাধারণত তিন ধরনের প্রধান সমস্যা দেখা দেয় এবং আগাম সতর্কতা অবলম্বন করলে এগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মাড়িজনিত সমস্যা:

খাবার গ্রহণের পর দাঁতের উপর একটি স্তর পড়ে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডেন্টাল প্লাক’ বলা হয়। এই প্লাক জমতে জমতে শক্ত হয়ে ‘ডেন্টাল ক্যালকুলাসে’ পরিণত হয় এবং দাঁতে ছোপ সৃষ্টি করে। যখন এই সমস্যা মাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তখন তাকে ‘জিনজিভাইটিস’ বলে। আর যখন এটি মাড়ির গভীর স্তর পর্যন্ত পৌঁছায়, তখন তাকে ‘পেরিওডনটাইটিস’ বলা হয়।

দাঁতের উপর জমা মোটা আস্তরণে অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করে। এই ব্যাকটেরিয়া অ্যাসিড উৎপন্ন করে, যা দাঁতের মধ্যবর্তী হাড়গুলোকে ধীরে ধীরে ক্ষয় করতে শুরু করে। এই হাড়গুলোই দাঁতকে চোয়ালের সাথে ধরে রাখে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই সমস্যা সাধারণত বোঝা যায় না। যখন অনেকটা ক্ষয় হয়ে দাঁত নড়তে শুরু করে এবং মাড়ি থেকে রক্ত বের হয়, তখনই রোগীরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

তবে নিয়মিত দাঁতের চেকআপ করালে শুরুতেই এই সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে স্কেলিং বা দাঁত পরিষ্কার করার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়েই এই সমস্যার সমাধান করা যায়।

ক্যাভিটি (দাঁতে গর্ত):

দাঁতে গর্ত হলে অনেকেই প্রাথমিক অবস্থায় তেমন গুরুত্ব দেন না। ফেলে রাখতে রাখতে যখন ব্যথা শুরু হয়, তখন তারা ডাক্তারের কাছে আসেন। শুরুতে এলে গর্ত দাঁতের গভীরে প্রবেশ করে না, ফলে ফিলিং করার মাধ্যমে দাঁতকে রক্ষা করা সম্ভব হয়। দাঁতের গর্ত যখন দাঁতের স্নায়ু পর্যন্ত চলে যায় বা পেরিঅ্যাপাইক্যাল ইনফেকশন হয়, তখন রুট ক্যানাল বা ক্রাউন করার প্রয়োজন হয়। অতিরিক্ত দেরি করলে দাঁতের গর্ত থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে দাঁত তুলে ফেলতে হতে পারে।

মুখগহ্বরের ক্যান্সার:

মুখের অভ্যন্তরে ছোট কোনো ক্ষত ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে তা বিপদের কারণ হতে পারে। তামাকজাত দ্রব্য সেবনকারীদের প্রথমে গালের চামড়া মোটা ও শক্ত হয়। ধীরে ধীরে মুখ ছোট হয়ে আসে এবং খাবার খেলে ঝাল লাগা বা গাল জ্বালা করার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এই সময় চিকিৎসকের কাছে এলে সমস্যা নিরাময় করা সম্ভব। দেরি করলে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মানুষের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা কম থাকায় মুখগহ্বরের ক্যান্সারে আক্রান্তের ঝুঁকিও এদেশে বেশি। দাঁত ভেঙে গেলেও ফেলে রাখা উচিত নয়। ভাঙা দাঁতের ধারালো অংশ মুখের অভ্যন্তরে খোঁচা লাগিয়ে ঘা সৃষ্টি করতে পারে এবং পরবর্তীতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই শুরুতেই সতর্ক হওয়া জরুরি। নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের কাছে দাঁত পরীক্ষা করালে এই সমস্যাগুলো প্রতিরোধ করার পাশাপাশি বয়সকালে দাঁত পড়ে যাওয়া ও দাঁতের ব্যথার মতো সমস্যাও এড়ানো যায়।

কতদিন পর পর ডাক্তারের কাছে যাবেন?

যাদের দাঁতের সমস্যা রয়েছে, তাদের প্রতি ছয় মাসে একবার এবং যাদের কোনো সমস্যা নেই, তাদের বছরে একবার অবশ্যই দন্ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত চেকআপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।