চোখ ওঠা একটি পরিচিত সমস্যা, যা খুব মারাত্মক না হলেও বেশ অস্বস্তিকর। সাধারণভাবে এই সংক্রমণ গুরুতর নয় এবং আক্রান্ত হওয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সঠিক যত্নে সেরে যায়। তবে এই সময়টুকু চোখের অস্বস্তি ও যন্ত্রণার কারণে বেশ কষ্টকর হতে পারে। তাই চোখ ওঠা সমস্যায় আতঙ্কিত না হয়ে, কিছু নিয়ম মেনে চললে সহজেই এই discomfort থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
যে কারণে চোখ ওঠে:
চোখ ওঠার প্রধান কারণ হলো অপরিষ্কার জীবনযাপন। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এর একটি কারণ হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাইরাস আক্রমণের ফলেই চোখ ওঠার সমস্যা দেখা দেয়।
চোখ ওঠার লক্ষণগুলো:
চোখ লাল হয়ে যাওয়া এই রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের পাতা আঠালো হয়ে যাওয়া।
চোখে সব সময় কিছু পড়েছে বলে মনে হওয়া।
চোখে চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া অনুভব করা।
আলোর দিকে তাকাতে অস্বস্তি লাগা।
সবকিছু ঝাপসা বা ঘোলাটে দেখা।
চোখ থেকে অনবরত জল পড়া।
চোখের কোণে ময়লা জমা হওয়া।
চোখের পাতা ফুলে যাওয়া।
চোখ উঠলে যা করবেন:
অনেকেই চোখ উঠলে বারবার জল দিয়ে চোখ ধোয়ার চেষ্টা করেন, যা মোটেও উচিত নয়। শুধুমাত্র সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে পরিষ্কার জল দিয়ে আলতো করে চোখ ধুয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন, নোংরা জল, ধুলোবালি বা দূষিত বাতাস যেন কোনোভাবেই চোখের সংস্পর্শে না আসে।
চোখ উঠলেও দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে পুরোপুরি বিরত থাকা সম্ভব না হতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর সময় অবশ্যই সানগ্লাস ব্যবহার করুন। এটি সূর্যের আলো থেকে আপনার চোখকে রক্ষা করবে এবং জ্বালাভাব কমাতে সাহায্য করবে।
চোখ ওঠা একটি ছোঁয়াচে রোগ। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির রুমাল, কাপড়, তোয়ালে বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসপত্র অন্য কারো ব্যবহার করা উচিত নয়। এমনকি হ্যান্ডশেকের মাধ্যমেও এই রোগ ছড়াতে পারে। তাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন এবং অন্যের জিনিস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
তবে যদি দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, চোখ অতিরিক্ত লাল হয়ে যায়, খুব বেশি চুলকানি বা ফোলাভাব দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত কোনো চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সঠিক পরিচর্যা এবং কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে চোখ ওঠা সমস্যার অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই ভয় না পেয়ে সচেতন থাকুন এবং প্রয়োজনীয় যত্ন নিন।