শরীর সুস্থ রাখতে আমরা কত কিছুই না করি! ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস—সবই মেনে চলি। কিন্তু মস্তিষ্কের সুরক্ষা নিয়ে ক’জন ভাবি? অথচ এই অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটি ঠিক থাকলে তবেই তো সব ঠিক থাকে। কিছু ভুল অভ্যাস নীরবে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
বুদ্ধিমত্তা মাপার একক হলো আইকিউ (ইন্টেলিজেন্স কোশেন্ট)। আন্তর্জাতিক এক সমীক্ষায় জানা গেছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ মানুষ আইকিউ ওয়ার্ল্ড টেস্টে ১৩০-এর বেশি নম্বর পান। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের বুদ্ধিমত্তার স্তর কমার জন্য অনেকাংশে দায়ী আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সেই অভ্যাসগুলো:
১. একসঙ্গে অনেক কাজ করা:
অনেকেরই ধারণা, একসঙ্গে একাধিক কাজ করা একটি ভালো গুণ। কিন্তু এটি মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা অনুযায়ী, যারা এক সময়ে একটি কাজেই মনোযোগ দেন, তাদের চিন্তাভাবনার ক্ষমতা যারা একসঙ্গে অনেক কাজ করতে চেষ্টা করেন তাদের চেয়ে বেশি। মাল্টিটাস্কিংয়ের অভ্যাস মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
২. পরোক্ষ ধূমপান:
ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এ কথা সবারই জানা। তবে যারা ধূমপান না করেও এর সংস্পর্শে থাকেন, তারাও বুদ্ধিমত্তা হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুরা পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়, তাদের আইকিউ অন্যান্য শিশুদের তুলনায় কম থাকে।
৩. অতিরিক্ত চিনি খাওয়া:
চিনি শুধু শরীরের মেদই বাড়ায় না, মস্তিষ্কের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা প্রায় ৬ সপ্তাহ চিনি জাতীয় খাবার খেলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। এর ফলে শেখার ক্ষমতা কমে যায় এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
৪. মানসিক চাপ:
অতিরিক্ত মানসিক চাপ কেবল মানসিক শান্তিই কেড়ে নেয় না, এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকেও ব্যাহত করে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ অ্যালঝাইমার রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি করে। ধীরে ধীরে লোপ পায় স্বাভাবিক বুদ্ধিমত্তা।
৫. স্থূলতা:
স্থূলতা শুধু শারীরিক সমস্যাই বাড়ায় না, মস্তিষ্কের উপরও খারাপ প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্য বয়সের পর যারা মোটা হয়ে যান, তাদের চিন্তা করার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। অতিরিক্ত ওজন মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা বুদ্ধিমত্তাকে কমিয়ে দেয়।
তাই, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে এবং বুদ্ধি তীক্ষ্ণ রাখতে এই ভুল অভ্যাসগুলো ত্যাগ করা জরুরি। একটি সুস্থ জীবনযাপন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস মস্তিষ্কের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিজের বুদ্ধিমত্তাকে ধরে রাখতে আজ থেকেই সচেতন হন।