একজনের রাতের অভ্যাস আরেকজনের থেকে আলাদা। কেউ রাতের খাবার পর গান শোনেন, কেউ বই পড়েন, আবার কেউ খেয়ে উঠেই বিছানা নেন ঘুমানোর জন্য। এই অভ্যাসগুলো শরীরের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে অন্তত একটি কাজ রাতের খাবার পর না করলে গুরুতর শারীরিক সমস্যা হতে পারে বলে মনে করছেন ডায়েটিশিয়ান লেজলি ব্যাক।
‘দা গ্লোব অ্যান্ড মেইল’ দৈনিকে লেজলি ব্যাক জানিয়েছেন, রাতে খাওয়ার পর অন্য কিছু করুন বা না করুন, কিছুতেই দু-তিন ঘণ্টার বেশি জেগে থাকা উচিত নয়। যদি রাতের খাবার গ্রহণের চার বা পাঁচ ঘণ্টা পর ঘুমাতে যান, তাহলে শরীরে মেটাবলিজম রেটের মারাত্মক পরিবর্তন ঘটে এবং ঘুমেরও সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে রক্তচাপের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
লেজলির পরামর্শ, যদি রাতে খাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকার প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই ফল কিংবা অন্য কোনো সহজে হজমযোগ্য খাবার খেয়ে নিন। এতে শরীরের এনার্জি বজায় থাকবে এবং মেটাবলিজমের উপর বেশি চাপ পড়বে না।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে যেতে বলছেন লেজলি। তার মতে, রাতের খাবার গ্রহণের পরপরই ঘুমিয়ে পড়লে গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল রিফ্লাক্সের কারণে গ্যাস, অম্বল বা বুক জ্বালার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই রাতের খাবার এবং ঘুমোতে যাওয়ার মধ্যে অন্তত ঘণ্টা দেড়েক-দুইয়ের ব্যবধান রাখা আদর্শ। এই সময়টুকুতে খাবার হজম হওয়ার সুযোগ পায় এবং ঘুমের সময় অস্বস্তি হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
সুতরাং, রাতে সুস্থ থাকতে হলে খাওয়ার সময়ের পাশাপাশি ঘুমের সময়ের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। রাতের খাবার গ্রহণের পর দু-তিন ঘণ্টার বেশি জেগে থাকা এড়িয়ে চলুন এবং খাওয়ার অন্তত ঘণ্টা দেড়েক পর ঘুমাতে যান। এই সামান্য নিয়ম মেনে চললেই আপনি অনেক শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।