অনেকেরই সকালে ঘুম থেকে ওঠাটা একটা যুদ্ধ। অ্যালার্ম বাজার পরেও চোখের পাতা যেন খুলতেই চায় না। ফলে রোজকার জীবনে কাজের ক্ষেত্রে থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনেও নানা সমস্যা দেখা দেয়। অথচ ডাক্তাররা বলেন, সুস্থ ও দীর্ঘজীবী হতে গেলে সকালে ওঠা অভ্যাসের বিকল্প নেই। তবে একা থাকা ব্যক্তিরা বা যাদের কর্মজীবন এখনও শুরু হয়নি, তারা অনেকেই সকালে ওঠার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না।
কিন্তু সত্যি বলতে, প্রত্যেকেরই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে এমন কিছু কাজ করা উচিত, যা কেবল তাদের দিনের শুরুটাকেই সুন্দর করবে না, বরং একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তেও সহায়ক হবে। সকাল ৮টার মধ্যে সম্পন্ন করা উচিত এমন ৮টি গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা এখানে বলা হলো:
১) ৭ ঘণ্টার পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুম আমাদের শরীরের জন্য জল ও খাবারের মতোই অত্যাবশ্যক। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকেই রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না, আবার কেউ দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুমান। দুটোই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ভালো ঘুম স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি, দীর্ঘ জীবন, ক্লান্তি দূরীকরণ, অবসাদ কাটানো এবং মনোযোগ বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
২) প্রার্থনা, ধ্যান বা যোগা: ঘুম থেকে উঠেই মনকে ইতিবাচকতার দিকে চালিত করা উচিত। আর এর জন্য প্রার্থনা বা ধ্যান একটি চমৎকার উপায়। এছাড়াও যোগ ব্যায়াম শারীরিক ও মানসিক উভয় দিকেই উন্নতি ঘটায় এবং মনোযোগ শক্তি বৃদ্ধি করে।
৩) শারীরিক কসরৎ: প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টার শারীরিক কসরৎ আপনার জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সচল শরীর আপনার কর্মজীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য শারীরিক কসরতের কোনো বিকল্প নেই।
৪) কমপক্ষে ৩০ গ্রাম প্রোটিন: ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিটের মধ্যে অন্তত ৩০ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডোনাল্ড লেম্যান তার বইতে এই পরামর্শ দিয়েছেন। ডিম, দুধ, বাদাম জাতীয় খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় এই ধরনের খাবার শরীরের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জল বা দুধের সঙ্গে প্রোটিন শেকও নেওয়া যেতে পারে।
৫) ঠান্ডা জলে স্নান: স্নান শুধু শরীরকে জীবাণুমুক্তই করে না, এটি আপনাকে প্রফুল্ল রাখতেও সাহায্য করে। ঠান্ডা জলে স্নান আপনার শরীরের এনার্জি বৃদ্ধি করে এবং মন ভালো রাখে।
৬) বই পড়া বা গান শোনা: সপ্তাহে অন্তত একটি বই পড়া উচিত এবং এই অভ্যাস প্রতিদিন শুরু করা দরকার। প্রবাদ আছে, ‘সাধারণ মানুষ বিনোদন খোঁজে…অসাধারণ খোঁজে শিক্ষা’। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, পৃথিবীর সফল ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই সপ্তাহে অন্তত একটি বই পড়েন। তাই সকালের ফ্রেশ মুডে বই পড়া একটি অত্যন্ত ভালো অভ্যাস।
৭) জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ: দিনের কিছু সময় নিজের জন্য বাঁচানো উচিত। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাভাবনা করা এবং লক্ষ্য স্থির করা প্রয়োজন। আর এর জন্য আলাদা করে সময় বের করা জরুরি। তাই প্রতিদিন সকালে কিছু সময় ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা উচিত।
৮) ভবিষ্যতের জন্য একটি পদক্ষেপ: প্রতিদিন এমন কিছু কাজ করা উচিত যা আপনার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয়। এমন একটি পদক্ষেপ নেওয়া যা আপনার ভবিষ্যতের ভিত্তি আরও মজবুত করবে। দিনের কিছুটা সময় এই কাজের জন্য আলাদা করে রাখুন।
সকালে ঘুম থেকে ওঠা প্রথম দিকে কঠিন মনে হলেও, এই ৮টি অভ্যাস আপনার জীবনকে ইতিবাচক দিকে চালিত করতে সহায়ক হবে এবং আপনাকে একটি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন উপহার দেবে। তাই আর দেরি না করে, আজ থেকেই এই অভ্যাসগুলো শুরু করার চেষ্টা করুন।