ঘুমের মধ্যে মুখ থেকে লালা ঝরা কি স্বাভাবিক? কারণ ও প্রতিকার জানুন

ঘুমের মধ্যে মুখ থেকে লালা ঝরার সমস্যা শুধু শিশুদের নয়, অনেক প্রাপ্তবয়স্ককেও ফেলতে পারে। যদিও বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে তেমন গুরুতর মনে না হলেও, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ঘুমের সময় মুখ দিয়ে লালা ঝরার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ঘুমের ধরনে ভুল। যারা সব সময় এক পাশ হয়ে ঘুমান, তাদের মুখ থেকে লালা ঝরার প্রবণতা বেশি থাকে। এছাড়াও, নাকের বদলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, মুখ হাঁ করে বা সামান্য খোলা রেখে ঘুমানোও এই সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

শারীরিক কিছু সমস্যাও ঘুমের মধ্যে লালা ঝরার কারণ হতে পারে। গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডিটি, বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জি এবং মুখের অভ্যন্তরে কোনো সংক্রমণ থাকলে লালা নিঃসরণ বেড়ে যেতে পারে। কিছু বিশেষ ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি, দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাসও মুখ থেকে লালা ঝরার কারণ হতে পারে। এই অভ্যাসের ফলে মুখের ভেতরের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা কমে যায়, যা ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এর ফলস্বরূপ মুখ থেকে লালা ঝরতে পারে।

দাঁতের স্বাস্থ্যও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দাঁতের ফাঁকে ছোট ছোট খাদ্যকণা আটকে থাকলে দাঁত ক্ষয় হতে শুরু করে। এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর দাঁতের কারণেও অনেক সময় লালা পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া, মুখের অভ্যন্তরে মাউথ আলসার হলে থুতুর পরিমাণ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়।

ক্লান্তিও অনেক সময় ঘুমের মধ্যে লালা ঝরার কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত শারীরিক বা মানসিক ক্লান্তি এবং মস্তিষ্কের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবনের পর স্নায়ুতন্ত্রে সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও এমনটা ঘটতে পারে।

ঠাণ্ডা লাগার সমস্যায় নাক বন্ধ হয়ে গেলে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হয়, যা লালা ঝরার একটি অন্যতম কারণ। তবে, ঠান্ডা লাগার সময় যদি মুখের কোণ সামান্য বেঁকে যায় বা একদিকে ঢালু মনে হয়, তবে এটি মুখের স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এই ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

তবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চিকিৎসকরা খাবারের তালিকায় নিয়মিত ভিটামিন সি রাখার পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। চিৎ হয়ে এবং মাথা সামান্য উঁচু করে ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করতে হবে। ঘুমের সময় মুখ বন্ধ রাখাটাও জরুরি। পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করা এবং গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডিটি বা অ্যালার্জির সঠিক চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। প্রয়োজনে লালা নিয়ন্ত্রণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা থাকলে তারও চিকিৎসা করানো আবশ্যক।

সুতরাং, ঘুমের মধ্যে মুখ থেকে লালা ঝরার সমস্যাটিকে হালকাভাবে না নিয়ে এর কারণ খুঁজে বের করা এবং সঠিক চিকিৎসা করানো জরুরি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy