বেঁচে থাকার জন্য খাবার অপরিহার্য, আর সুস্থ জীবনের জন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর ও পরিমিত আহার। তবে এমন অনেকেই আছেন যাদের পেট ভরা থাকলেও কিছু না কিছু খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা লেগেই থাকে। বিশেষ করে যারা খাদ্য সচেতন, ভোজনরসিক অথবা ডায়েট করছেন, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দৈনিক এক হাজার ক্যালোরির কম খাবার গ্রহণ করলে এই ‘খাই খাই’ ভাব বা ফুড ক্রেভিং দেখা দিতে পারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে এই অস্বস্তিকর অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই সহজ নিয়মগুলো:
১. পর্যাপ্ত ঘুম চাই: যারা কম ঘুমান এবং ক্লান্তি অনুভব করেন, তাদের মধ্যে ‘খাই খাই’ ভাব বেশি দেখা যায়। শরীর ক্লান্ত থাকার কারণে সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকতে অতিরিক্ত খাবারের চাহিদা তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে সতেজ রাখে এবং অহেতুক খাদ্য craving কমাতে সাহায্য করে।
২. চাপ কমান, আসক্তি ঠেকান: দৈনন্দিন জীবনে মানসিক চাপের সম্মুখীন হলে অনেকেরই চকলেট বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়ে। এই আসক্তি নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। চাপ কমাতে নিয়মিত হাঁটুন, ব্যায়াম করুন অথবা পছন্দের কোনো বন্ধুর সঙ্গে কথা বলুন বা সিনেমা দেখুন। মনকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখলে খাবারের প্রতি অযথা আকর্ষণ কমবে।
৩. সময়মতো স্বাস্থ্যকর খাবার: অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগলে উচ্চ ক্যালোরি যুক্ত ভাজা বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। তাই তীব্র ক্ষুধা লাগার আগেই স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে নিন। কখন কী খাবেন তার একটি মোটামুটি পরিকল্পনা তৈরি করে রাখুন। সঠিক সময়ে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি লোভ কমে যায়।
৪. খাবারে প্রোটিনের প্রাধান্য: আপনার খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করুন। ওবেসিটি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, খাবারের মোট ক্যালোরির ২৫ শতাংশ প্রোটিন থেকে এলে ভুলভাল খাবার খাওয়ার প্রবণতা প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার অনুভূতি হ্রাস করে।
৫. জলের সঠিক ব্যবহার: অনেক সময় আমাদের মস্তিষ্ক ক্ষুধার সংকেতকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে না। আপনি যখনই ক্ষুধার্ত বোধ করবেন, এক গ্লাস জল পান করুন। স্বাভাবিকভাবে জল পান করলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষুধা কমে যায়। এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে যদি আবারও ক্ষুধা অনুভব করেন তবেই খাবার গ্রহণ করুন। এটি আপনার অতিরিক্ত খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়ক হবে।
এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি সহজেই আপনার ‘খাই খাই’ ভাব বা ফুড ক্রেভিং নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে সক্ষম হবেন।





