সন্তান জন্মের পর দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব বেড়ে যাওয়া একটি সাধারণ ঘটনা, যা অনেক দম্পতির মধ্যেই ঘটে। এই পরিবর্তনের পেছনে কিছু সাধারণ কারণও রয়েছে। সন্তানের জন্মের পর বাবা-মা দুজনেই দাম্পত্য জীবনের তুলনায় সন্তানকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অথচ এই সময় গোটা বিষয়টি বুদ্ধি করে সামলে নিলে দুজনের সম্পর্ক আরও বেশি মধুর হয়।
সব সম্পর্কেই ভালোবাসার পাশাপাশি ঝামেলা-অশান্তি লেগে থাকে। ভালবাসার মানুষের সঙ্গেই তো আমাদের যত রকম মান-অভিমানের পালা চলে। তবে এই মান-অভিমানের পর্ব খুব বেশি দিন চালিয়ে যাওয়া কিন্তু মোটেও ঠিক নয়। সন্তান জন্মের পরে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে অনেক সময়ই বেশ খানিকটা দূরত্ব চলে আসে।। জেনে নিন, সন্তান জন্মের পরেও সম্পর্ক রঙিন রাখার মূল চাবিকাঠি কী।
রোম্যান্স জরুরি
সন্তান জন্মের পর দম্পতির ভূমিকা বদলে যায়। তারা কেবল সঙ্গীই নয়, এখন তারা বাবা-মাও বটে। এই নতুন দায়িত্বের কারণে তাদের রোমান্টিক সম্পর্কের জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একে অপরের মনে কী চলছে, তা জানা ও রোম্যান্স করা ভীষণ জরুরি। সঙ্গীর মন ভাল করার পথটাও কিন্তু আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে। ভালোবাসা থাকলেই হলো না কখনও কখনও ভালোবাসা দেখাতেও হবে। সঙ্গীকে ছোটখাটো সারপ্রাইজ়, সঙ্গীর প্রশংসা করা, মাঝেমধ্যেই দুজনে কোথাও বেরিয়ে পড়া— জীবনে এই ছোট ছোট বদলগুলো আনলেই সুখের হবে জীবন। সব সময় সঙ্গী আপনার মনের কথা ভেবে চলবেন এমনটা নয়, আপনাকেও কিছু প্রচেষ্টা করতে হবে।
একান্তে সময় কাটান
সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম কারণ কিন্তু একে অপরকে সময় না দেওয়া। সন্তান জন্মের পর স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের জন্য নির্দিষ্ট সময় দিতে পারেন না। সন্তানের যত্ন নেওয়া এবং তাদের প্রয়োজন পূরণে বাবা-মায়ের সময় ও মনোযোগের বড় একটি অংশ চলে যায়। এর ফলে সঙ্গীর প্রতি মনোযোগ কমে যেতে পারে। দৈনন্দিন নানা বিষয় একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া, একে-অপরের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া— এ সবের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সঙ্গীকে চেনার একমাত্র চাবিকাঠি। তাই দিনের একটা সময় সঙ্গীর জন্য বরাদ্দ রাখুন। সন্তান জন্মের পর বিশেষ করে ওকে ঘিরেই নতুন জগৎ বানিয়ে নেন অভিভাবকরা, এই ভুলটা না করে দাম্পত্য জীবনের জন্যও কিন্তু দুজনে কিছু সময় বের করে নিতে পারেন।
সঙ্গীর প্রশংসা করুন
সন্তান জন্মের পর অনেক নারীই অবসাদে ভোগেন। নারীদের শরীরে এ সময় নানা রকম বদল আসে, হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। মাঝেমধ্যে একজন সঙ্গী মনে করতে পারেন যে, তাদের গুরুত্ব কমে গেছে বা তারা অবহেলিত সেটা মোটেও দেখানো উচিত না। সম্পর্ক মানেই তো জীবন সঙ্গীর সুখে-দুঃখে একে অপরের পাশে থাকা। এই সময় প্রশংসা করলে নারীদের মন ভাল থাকে। আপনি যে তার প্রতি কৃতজ্ঞ, সেটা কখনও কখনও ভাষায় প্রকাশ করা জরুরি। তার কাজের প্রশংসা করুন, মাঝেমধ্যে প্রশংসা শুনে সঙ্গীর মনও ভাল হয়ে যাবে।
মিলেমিশে কাজ
সন্তানের জন্মের পর মা-বাবা দুজনেই শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হতে পারেন। এই ক্লান্তি সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ খুঁজুন। সন্তানের টুকিটুকি কাজের সঙ্গে বাড়ির কাজ মিলেমিশে করতে পারেন। দেখবেন সম্পর্কের জটিলতা অনেকটাই কেটেছে। একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য একসঙ্গে জিমে যেতে পারেন, সুইমিং করতে পারেন, রাতে খাওয়াদাওয়ার পর বাহির থেকে সঙ্গীর সঙ্গে একটু হাঁটাহাঁটি করে আসতে পারেন। একে অপরের যত কাছাকাছি থাকবেন, ভুল বোঝাবুঝি ততই কমবে। মনে কোনও কথা জমা না রেখে একান্তে সঙ্গীর সঙ্গে সমস্যা ভাগ করে নিন।
পুরনো বিবাদ ভুলে যাওয়া
সন্তানের দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে যদি কথা না বলা হয় বা একে অপরকে বোঝার চেষ্টা না করা হয়, তাহলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। পুরনো কোনও সমস্যা বা বিবাদকে ঝগড়ার মাঝে টেনে আনবেন না। যাকে ভালবাসছেন তার ছোটখাটো ভুল ক্ষমা করে দিন। বার বার অতীতের বিবাদের প্রসঙ্গ টেনে আনলে কখনওই সুখের হবে না দাম্পত্য জীবন।