ত্বকের যত্নে নয়নতারা, ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর এটি! জানতে পড়ুন অবশ্যই

নয়নতারা আমাদের পরিচিত একটি গুল্মজাতীয় ভেষজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Catharanthus roseus। এই গাছের উচ্চতা ২ থেকে ৩ ফুট হয়। নয়নতারা একটি বর্ষজীবী উদ্ভিদ। এদের পাতা আয়তাকার, গোড়ার দিকে অনেকটা ডিম্বাকার, ৪-৭ সেমি লম্বা, মসৃণ।

নয়নতারা ফুল সাদা বা গোলাপি রঙের হয়। পুরো ফুল একরঙা হলেও ফুলের মধ্যবিন্দুটি অন্য রংয়েরও হয়। এর আদি নিবাস মাদাগাস্কার হলেও এটি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও আফ্রিকা মহাদেশসহ অনেক দেশেই এর দেখা পাওয়া যায়। নিম্নাঞ্চলের জলাভূমিতে এটি ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে, তবে শুকনো এলাকাতেও এদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হয় না। এই গাছটির ফুল এবং পাতার রস ঔষধি হিসেবে কাজে লাগে।

রাসায়নিক উপাদান:

গাছটির পাতা, ফুল ও ডালে বহু মূল্যবান রাসায়নিক উপাদান পাওয়া যায়। প্রায় ৭০ টিরও বেশি উপক্ষার পাওয়া যায় এ গাছ থেকে। ভিনক্রিস্টিন ও ভিনব্লাস্টিন নামের উপক্ষার দুটি লিউকেমিয়া রোগে বিশেষ ব্যবহার রয়েছে। এছাড়াও এতে ডেলটা-ইহোহিম্বিন নামের এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া যায়।

উপকারিতা:

১. নয়নতারার পাতার রসদিয়ে ত্বক পরিষ্কার করলে ত্বকের বিবর্ণতা এবং ক্ষত খুব দ্রুত সেরে যায়। এছাড়াও ত্বকের চুলকানি এবং ফাঙ্গাস জনিত যেকোনো সমস্যায় নয়নতারা পাতা সিদ্ধ জল অনেক উপকারী।

২. ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে নয়নতারা দারুণ কার্যকর। এতে থাকা সব উপকারী উপক্ষার আমাদের রক্তে চিনির পরিমাণ কমায় এবং ব্লাড সুগার লেভেলকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়াও নয়নতারা আমাদের রক্তে থাকা খারাপ কোলেস্টরল কমায়।

৩. নয়নতারার পাতার রস আমাদের রক্ত পরিষ্কার রাখে। আর এতেই আমাদের ত্বক অনেক ভালো থাকে এবং অকালে ত্বক বুড়িয়ে যায় না। তাই তারুণ্য ধরে রাখতে নয়নতারার পাতার রস কিন্তু অনেক কার্যকরী।

৪. বোলতা, ভিমরুল, মৌমাছি, ভোমরা, পিঁপড়ে, কাঠপিঁপড়ে প্রভৃতির হুলের জ্বালায় ও কামড়ে যন্ত্রণার হাত থেকে উপকার পেতে হলে নয়নতারার পাতা থেঁতো করে সেই রসটা অথবা পাতার বাটা লাগালে উপকার মেলে।

৫. উচ্চ রক্তচাপ, লিউকোমিয়া, রক্তপ্রদর, মধুমেহ, কৃমির ইত্যাদি রোগে এ গাছের মূল, ফুল, পাতা ও শিকড় কাজে লাগে। এজন্য মূলসহ নয়নতারার ক্লাথ নিয়ম করে খেলে সুফল পাওয়া যায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy