ওজন কমাতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনছেন নাতো আপনি। জানতে অবশই পড়ুন-

এ সময়ে অন্যতম শারীরিক সমস্যা হচ্ছে ওজন বেড়ে যাওয়া। মূলত অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, ফাস্ট ফুড নির্ভরতা, অফিসে বেশিক্ষণ বসে কাজ করা ইত্যাদি কারণে ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন অধিকাংশ মানুষ।

এ ছাড়া হরমোন বা জিনগত কারণে ভুঁড়ির সমস্যা তো আছেই। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে অনেকে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেন। অনেকে রীতিমতো খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেন।

তাড়াহুড়ো করে ওজন কমাতে গিয়ে অনেকে ভুল পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন। উপোস করে, দীর্ঘ বিরতিতে খেয়ে বা একদমই না খেয়ে ডায়েট করে থাকেন।

এ ডায়েট সম্পর্কে আছে অনেকের ভুল ধারণা। ফলে খাওয়া দাওয়ায় পরিবর্তন আনতে গিয়ে নিজেদের ক্ষতি ডেকে আনেন অনেকে।

প্রতিদিন অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে প্রাথমিকভাবে ওজন কমতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জি নিউজ জানাচ্ছে।

ডায়েটিসিয়ানরা বলছেন, উপোস করে বা একেবারে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিলে ওজন না কমে উল্টো শরীরের ক্ষতি হয়। চর্বি না কমে বরং শরীরের পেশির পরিমাণও কমতে পারে।

এ ছাড়া অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকলে শরীরের মেটাবলিজম কমে যায়। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা দিনে ১২০০ কিলো ক্যালরির কম খেলে অনেকটাই কমে যায় মেটাবলিজমের পরিমাণ।

ফলে শরীরে শক্তির ব্যবহার কমে যায়। ফ্যাট বা চর্বি কমবে না। উল্টো শরীর আরও দুর্বল হয়ে যাবে। ফলে ডায়েট থেকে আপনি আশানুরূপ ফল পাবেন না।

তা ছাড়া হয় আলসার, গ্যাসট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা থাকবেই। পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ত্বকের উজ্জ্বলতাও কমে যায়।

এখন ডায়েটিসিয়ানদের পরামর্শ হচ্ছে, শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত ক্যালরির খাবার খাওয়া উচিত। নিয়মিত খাবারের মধ্যে রাখুন কার্বোহাইড্রেট, চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিনের সুষম ব্যালেন্স।

আর ওজন কমাতে হলে প্রথমেই বাদ দিতে হবে জাঙ্ক ফুড, ডিপ ফ্রায়েড খাবার-দাবার, কোল্ড-ড্রিংকস ও প্যাকেট জাতীয় খাবার।

কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের পরিমাণ কম রেখে প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, ফল, ছোট মাছ, মুরগির মাংস খান বেশি করে। আর স্ন্যাক্স হিসেবে খেতে পারেন অঙ্কুরিত ছোলা, বাদাম, আখরোট, মৌসুমি ফলের স্যালাড। সেই সঙ্গে দিনে ৩-৪ লিটার করে জল।

মূল কথা হচ্ছে, একেবারেই উপোস থাকা যাবে না। সারা দিনে কয়েকবার খান কিন্তু অল্প পরিমাণে খান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy