চোখে অ্যালার্জির প্রকারভেদ গুলি ,জেনে রাখুন অপনিও

অ্যালার্জির প্রকারভেদঃ
২ ধরনের অ্যালার্জি দেখা যায় । সিজেনাল আর বারোমেসে।

• সিজেনাল অ্যালার্জি বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়ে হয়ে থাকে বিশেষ করে শরৎ কালে আর বসন্তকালে। এসব সময়ে এলারজেন যেমন ঘাস, গাছ থেকে পরাগ রেণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ছত্রাক থেকে স্পোরও বাতাসে ছড়িয়ে আমাদের চোখের অ্যালার্জির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

• বর্ষজীবী অ্যালার্জি সারা বছরই হয়ে থাকে। সাধারণত ধূলোবালি, পাখির পালক, পশুর গায়ের লোম, ধোঁয়া, ক্লোরিন, কসমেটিকস, পারফিউম ইত্যাদিও চক্ষু অ্যালার্জির জন্য দায়ী।

চোখের অ্যালার্জির লক্ষণঃ
০১. চোখ লাল হয়ে যাওয়া।

০২. চোখে চুলকানি হওয়া আর অনবরত জল পড়া।

০৩. চোখ খচখচ করা মানে চোখের ভেতর কিছু ময়লা পড়েছে এমন বোধ হওয়া।

০৪. চোখ ফুলে যাওয়া

ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রতিরোধের উপায়ঃ
০১. চোখের অ্যালার্জির প্রিভেনটিভ হিসেবে গোলাপ জলের জুড়ি নেই। ২-৩ ফোঁটা গোলাপ জল অ্যালার্জি আক্রান্ত চোখে দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য চোখ বন্ধ করে রাখতে হবে যেন জলটা চোখে প্রবেশ করে আর ইনফেকশন সারিয়ে তোলে।

০২. ৩ চা চামচ লবণ এক গ্লাস জলে দিয়ে ২০ মিনিট ফুটাতে হবে। তারপর ঠাণ্ডা হলে এক টুকরা পরিষ্কার তুলা দিয়ে আক্রান্ত চোখের কোণা মুছতে হবে। যেন চোখে থাকা ময়লা বের হয়ে আসে এবং চুলকানি আর অস্বস্তি থেকে আপনাকে থেকে মুক্তি দেয়।

০৩. চোখের অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য জলের অবদানের কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। চোখে চুলকানি হলে বা লাল হয়ে গেলে বারবার ঠাণ্ডা জল দিন।

০৪. কিছু আমলকির গুঁড়োর সাথে মধু মিশিয়ে প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে খাবেন। এতে আপনার ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি সাধন হবে আর অ্যালার্জি থাকবে আপনার কাছ থেকে দূরে।

০৫. সায়েনি এক ধরণের হার্ব। কিছুটা আমাদের দেশের মরিচের মতই। সায়েনি রক্ত সঞ্চালনে উন্নত করে এবং টক্সিন রিলিজ করতে সাহায্য করে। এভাবে চোখের ময়লাও পরিষ্কার করে।

চোখের অ্যালার্জি এড়িয়ে চলার কয়েকটি টিপসঃ

০১. শুষ্ক মৌসুমে যখনই বাইরে বের হবেন ধূলোবালি থেকে রক্ষা পেতে নাকে-মুখে মাস্ক এবং চোখে সানগ্লাস ব্যবহার করবেন।

০২. চোখ চুলকালে আঙ্গুল দিয়ে চোখ রগড়াবেন না। সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডা জল দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলবেন।

০৩. টিভি বা কম্পিউটারের সামনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করবেন না।

০৪. সাবধানে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করবেন।

০৫. খেয়াল রাখবেন গরুর মাংস, চিংড়ি মাছ, ডিম জাতীয় কোন খাবারের কারণে আপনার অ্যালার্জি হচ্ছে কিনা।

০৬. ঘরের কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

০৭. ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আই ড্রপ ব্যবহার করবেন।

০৮. আপনার যদি বাড়ীতে লোমশ পোষা কোন প্রাণী থাকে তাহলে তার থেকে সতর্ক থাকবেন।

মোট কথা সব সময় পরিষ্কার পরিছন্নতার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। অনেক সময় হয়ত বুঝতে পারেন না আপনার চোখের অ্যালার্জি কেন হচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু সময় যেমন বাইরে বেশি বাতাস হলে আপনি যদি বের হন বা ধোঁয়া যুক্ত জায়গায় গেলে যদি আপনার চোখে জ্বালা-পোড়া করে বা চুলকায় বা জল পড়ে তাহলে বুঝবেন এগুলোই আপনার জন্য ক্ষতিকারক। তারপরও যদি বুঝতে না পারেন আপনি কিসের প্রতি সংবেদনশীল তাহলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy