এ এক গভীর অসুখ, পুরুষের একান্ত নিজস্ব অসুখ। অনেকেই এই সমস্যায় পড়েন। কিন্তু একে ‘অসুখ’ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন না অনেক সময়েই। আবার অসুবিধা টের পেলেও চেপে যান। কারণ, এতে জড়িত রয়েছে ‘পৌরুষ’-সংক্রান্ত প্রশ্ন। সিমেন লিকেজ নামের এই ডিজঅর্ডার ঘটতে পারে যে কোনও বয়সেই। আর পাঁচটা শারীরিক সমস্যার সঙ্গে এর পার্থক্য না-দেখাই ভাল। তবে সবার আগে জেনে নেওয়া দরকার সিমেন লিকেজ-এর লক্ষণগুলো কী।
প্রাথমিকভাবে এটাই ঘটে, যখন তখন বীর্য নির্গত হয়ে যায়। কোনও ইরেকশন ছাড়াই এমনটা ঘটতে থাকে। প্রথমে টের পাওয়া না-গেলেও ক্রমে বোঝা যায়, এক প্রকার যৌন-ক্লান্তি ছেয়ে যাচ্ছে। অনেক সময়ে আবার ক্ষণিকের জন্য ইরেকশন ঘটে। সেই মুহূর্তেই স্খলন ঘটে যায়। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, প্যারাসিম্প্যাথেটিক নার্ভের দৌর্বল্য থেকেই সিমেন লিকেজ শুরু হয়। এর কারণ হিসেবে তাঁরা চিহ্নিত করেছেন অতিমাত্রায় স্বমেহনকে। মাত্রাতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে এই বিশেষ নার্ভটির উপরে চাপ পড়ে। এবং এই চাপ শেষ পর্যন্ত মস্তিষ্ক পর্যন্ত গড়ায়। প্রভাবিত হয় বেশ কিছু জরুরি হর্মোনের নিঃসরণ।
সিমেন লিকেজের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা দিতে পারে ক্লান্তি, পিঠব্যথা, চুল ঝরে যাওয়া, দুর্বল ইরেকশন, দ্রুত স্খলন, অণ্ডকোষে ব্যথা, পেলভিসে খিঁচ ধরা ইত্যাদি।
এর চিকিৎসার জন্য অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ বাঞ্ছনীয়। তবে স্বমেহন বা হস্তমৈথুনের উপরে নিয়ন্ত্রণ এনেও মোকাবিলা করা যায় সিমেন লিকেজের।