হাজারদুয়ারী গেলেই মিস করবেন না! ৫.৫ মিটার লম্বা, ৮ ধাতুতে তৈরি ৭৯০০ কেজির ‘জাহানকোষা’, কেন এটি সংরক্ষণ জরুরি?

মুর্শিদাবাদে আজও ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মুঘল আমলের বিশাল কামান— ‘জাহানকোষা’। বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে এই অষ্টধাতুর তৈরি কামানটি ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটিকে নতুন করে সংরক্ষণ করে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় টোটো চালক থেকে শুরু করে পর্যটকরাও।

কথিত আছে, মুর্শিদকুলি খাঁর পরবর্তী নবাবের আমলেও এই স্থানে একটি অস্ত্রাগার ছিল, যদিও তার কোনো নিশানা আজ আর নেই। তবে ইতিহাস তার ছাপ রেখে গেছে এই জাহানকোষা কামানের মধ্যে। কামানের গায়ে খোদাই করা লেখা থেকে জানা যায়, সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সুবাদার ইসলাম খাঁর আদেশে ১৬৩৭ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে এটি তৈরি করা হয়েছিল। কামানটির নির্মাতা ছিলেন জনার্দন কর্মকার।

কামানটির পরিচিতি:

  • দৈর্ঘ্য: ৫.৫০ মিটার

  • প্রস্থ: ১.৭০ মিটার

  • ওজন: আনুমানিক ৭৯০০ কেজি

  • ব্যবহৃত বারুদ: প্রতিবার দাগার জন্য ১৭ কেজি

  • ধাতু: এটি অষ্টধাতু দিয়ে তৈরি—সোনা, রূপা, দস্তা, তামা, জিঙ্ক, টিন, লোহা ও পারদ।

জনশ্রুতি রয়েছে, মুর্শিদকুলি খাঁ ঢাকা থেকে রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরের সময় এই কামানটি নিয়ে এসেছিলেন। তবে কামানটিকে ঘিরে একটি অবিশ্বাস্য গল্প প্রচলিত আছে। কোনও কারণে এটি ক্রুদ্ধ হয়ে নদীপথে চলে যাওয়ার সময় একটি অশ্বত্থ গাছ নাকি এটিকে জড়িয়ে ধরেছিল! বহুকাল সেই অবস্থায় থাকার পর সরকার এটিকে গাছ থেকে মুক্ত করে একটি উঁচু বেদির ওপর স্থাপন করে। বর্তমানে কামানটি তোপগ্রাম নামে পরিচিত (মুর্শিদাবাদ শহরের পাশে কাটরা মসজিদে যাওয়ার পথে) একটি স্থানে রয়েছে। নবাবী আমলে এটি লোহার চাকার ওপর স্থাপিত থাকলেও, বর্তমানে সেটি আর নেই। একসময় এটি মাটির নিচেই পড়ে ছিল এবং কালক্রমে গাছের কাণ্ডে আটকা পড়ে সেটি আবার দৃশ্যমান হয়।

মুর্শিদাবাদে হাজারদুয়ারী দর্শনে এলেও অনেকের কাছেই এই ঐতিহাসিক স্থানটি এখনও অজানা। তাই পর্যটকদের আনাগোনা বাড়াতে এবং ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে দ্রুত সংরক্ষণের দাবি উঠেছে। শীতের ছুটিতে মুর্শিদাবাদ গেলে এই অষ্টধাতুর কামানটি একবার ঘুরে আসতে পারেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy