দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় তৎপর হয়েছে কলকাতা পুলিশও। শহরে একাধিক জায়গায় নাকা তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি, গোয়েন্দা দফতর এবার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের কতজন নাগরিক দেশে ফেরেননি, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে।
ভুয়ো পরিচয় তৈরি করে গা ঢাকা!
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, লালবাজার ও ভবানীভবন থেকে সমস্ত থানা ও গোয়েন্দা আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, শহর ও জেলাজুড়ে বিদেশি নাগরিকদের নথি পরীক্ষা করে নজরদারি বাড়াতে হবে। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে আসা ব্যক্তিদের ভিসার মেয়াদ বহু আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু মেয়াদ ফুরনোর পর আইন অনুযায়ী পুলিশকে জানানোর বদলে অনেকে গা ঢাকা দিয়েছেন।
তদন্তকারীদের প্রশ্ন—কেন তাঁরা এমন করছেন? তাঁদের উদ্দেশ্য কী? অভিযোগ, দালাল চক্রের সহায়তায় তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নকল আধার বা ভোটার কার্ড তৈরি করে নিজেদের ভারতীয় নাগরিক বলেও পরিচয় দিচ্ছেন। তদন্তকারীদের দাবি, এই ধরনের জাল পরিচয়ে লুকিয়ে থাকা বিদেশিদের আচরণ সন্দেহজনক বলেই মনে করা হচ্ছে।
স্লিপার সেলের সক্রিয় সদস্যের খোঁজে তৎপর গোয়েন্দারা
পুলিশের একাংশের আশঙ্কা, ভুয়ো পরিচয় তৈরির পর এভাবে গা ঢাকা দেওয়া বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে কেউ কেউ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে। তাঁদের মধ্যে কেউ স্লিপার সেলের সক্রিয় সদস্য কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েক বছরে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে জেএমবি (JMB), লস্কর-ই-তৈবা (LeT), হুজি (HuJI) এবং আনসারুল বাংলা টিমের একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন গোয়েন্দারা। ফলে তাদের পুরনো নেটওয়ার্ক এখনও কোথাও সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এক আধিকারিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে বলেন, “আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি। অন্য জেলা কিংবা কমিশনারেটের সঙ্গেও আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। এসটিএফের গোয়েন্দারাও আমাদের সাহায্য করছেন।”
সূত্রের খবর, অভিবাসন দফতর, রাজ্য গোয়েন্দা শাখা এবং বিভিন্ন থানার মধ্যে সমন্বয় করে ইতিমধ্যেই বিদেশি নাগরিকদের পূর্ণ তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কারা ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরও দেশে ফেরেননি এবং তাঁরা এখন কোথায় লুকিয়ে থাকতে পারেন, সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লালবাজার সূত্রের খবর, শহর ও জেলা – দু’জায়গাতেই কঠোর নজরদারি চলছে এবং অবৈধ বিদেশি বসবাসকারী যাতে আত্মগোপন করে থাকতে না-পারে, সেজন্য যাবতীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।