স্কুলের টয়লেট ও বাড়িতে নাবালিকাকে নির্যাতন! কেরলে বিজেপি কর্মী শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আদালতের

১০ বছরের এক নাবালিকাকে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কেরলের এক স্কুলশিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Life Imprisonment) দিল থালাসেরি ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশ্যাল কোর্ট। শনিবার বিচারক জলরাজনি এম টি এই রায় ঘোষণা করেন।

দোষী শিক্ষকের নাম পদ্মরাজন কে, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘পাপ্পেন মাস্টার’ নামে পরিচিত। ৪৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি কাডাভাথুরের বাসিন্দা এবং একই সঙ্গে স্থানীয় বিজেপির সক্রিয় কর্মী

স্কুল ও বাড়িতে নির্যাতন:

রায় অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে পালাথাইয়ের একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন পদ্মরাজন। অভিযোগ অনুসারে, সেই সময় স্কুলের টয়লেট এবং নিজের বাড়িতে ওই নাবালিকাকে তিনি বারবার যৌন নির্যাতন করেন। ঘটনাটি সামনে আসার পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ পানুর পুলিশ মামলা রুজু করে এবং ১৫ এপ্রিল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।

আদালতের কঠোর রায়:

আদালত এই গুরুতর অপরাধের জন্য পদ্মরাজনের বিরুদ্ধে কঠোর রায় ঘোষণা করেছে:

  • যাবজ্জীবন কারাদণ্ড: আইপিসির ৩৭৬এবি ধারায় (১২ বছরের কম বয়সি নাবালিকাকে ধর্ষণ) তাঁকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ₹১ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

  • পকসো আইনের সাজা: পকসো আইনের ৫(এফ) ও ৫(এল) ধারায় (শিশুর উপর প্রবেশমূলক যৌন আক্রমণ ও পুনরাবৃত্ত আক্রমণ) পৃথকভাবে ১০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড এবং প্রতিটি ধারায় ₹৫০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য হয়েছে।

  • সাজার অগ্রাধিকার: নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পকসো-র ধারাগুলোর সাজা আগে ভোগ করতে হবে, তারপর আজীবন কারাদণ্ড কার্যকর হবে।

পদ্মরাজন আদালতে ক্ষমা চেয়ে নিজেকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী দাবি করলেও, প্রসিকিউশন পক্ষ কোনো শিথিলতার সুযোগ না দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে। আদালত সেই অবস্থানকে সমর্থন করে। জরিমানার পুরো অঙ্ক ভুক্তভোগীকে দেওয়ার এবং জেলা লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিকে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ বিচারপর্বে ৪২ জন সাক্ষী ও ৯১টি নথি আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আদালত এই উল্লেখযোগ্য রায় ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার পর পদ্মরাজন কান্নুর সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।